প্রাণীকুলের মধ্যে বাঘের সন্তান মমতা সর্বজন বিদিত। তেমনই এক ভাইরাল দৃশ্য এবার সামনে আসলো। মানুষ তো বটেই, মানবেতর প্রাণীদের মধ্যে এই নজরদারি দেখা যায় হরদম। তাই বলে বাচ্চাদের জলকেলিতেও তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখবেন মা! এ কি মেনে নেওয়া যায়? হয়ত না। কিন্তু শাবকদের জলে ছেড়ে মা যদি ওভাবে পাড়ে বসে নজর না রাখত, তবে এমন নয়নাভিরাম, বিরল দৃশ্য থেকে বঞ্চিত হতাম আমরা। মহারাষ্ট্রের টাডোবা-আন্ধেরি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে একসঙ্গে বাঘ পরিবারের ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল। মা বাঘের নজরদারি দেখে প্রশংসায় ভরালেন নেটিজেনরা। প্রাক্তন বনাধিকারিক নিজের এক্স হ্যান্ডলে সেই ভিডিও পোস্ট করার পর থেকে তা ঘুরছে পশুপ্রেমীদের সোশাল মিডিয়ার পাতায়। ঘটনাটা ঠিক কী? টাডোবার বনকর্মী রাহুল মঙ্গম নিজের এক্স হ্যান্ডল থেকে বাঘেদের গতিবিধি নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতেই ধরা পড়েছে ব্যাঘ্র পরিবারের জমজমাট রোজনামচা।
ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, সংরক্ষণ কেন্দ্রে ভিতরে একটি ছোট, সরু কর্দমাক্ত জলাশয়ে নেমে পড়েছে তিন থেকে চারটি ব্যাঘ্র শাবক। কেউ জলে অর্ধেক শরীর ডুবিয়ে দিয়েছে, কেউ সাঁতরাচ্ছে, কেউ আবার শুধুমাত্র স্থির হয়ে চারপাশ দেখে নিচ্ছে। জলাশয়ের পাড়ে বসে তাদের আবার বেশ নজরে রাখছেন মা বাঘ। মাঝেমধ্যেই জলের কাছে মুখ এনে দেখে নিচ্ছে, জলকেলির নামে শাবকদের বেশি দুরন্তপনা করছে না তো? অথবা ভাসতে ভাসতে বেশি দূরে চলে যাচ্ছে না তো? তেমন বেগতিক দেখলেই হালকা হুঙ্কার দিয়ে মা বুঝিয়ে দিচ্ছে, ‘আমি কিন্তু সব দেখছি।’ হাবভাব অন্তত তেমনই। রাহুল মঙ্গমের সেই ভিডিওটি রিপোস্ট করেছেন প্রাক্তন আইএফএস আধিকারিক সুশান্ত নন্দ। সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দর পুল পার্টি। রক্ষণশীল মায়ের কড়া নজরদারিতে বাচ্চারা মজা করছে।’
