www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

November 5, 2026 2:00 pm

দুয়ারে কালীপুজো। মানুষের আনন্দ শুরু হয়ে গেছে। সেই কালীপুজোর সঙ্গে প্রদীপ জ্বালানোর একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে

দুয়ারে কালীপুজো। মানুষের আনন্দ শুরু হয়ে গেছে। সেই কালীপুজোর সঙ্গে প্রদীপ জ্বালানোর একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে। আলোর এই উৎসব মানেই আনন্দ, উল্লাস ও অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে সুন্দরকে স্বাগত জানানো। কার্তিক মাসের এই ৪ দিনের উৎসবের প্রতিদিনই আছে কিছু না কিছু ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব। এই দিনগুলিতে নির্দিষ্ট সংখ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা চালু আছে, যার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কিছু গভীর আধ্যাত্মিক কারণ। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ধনতেরাস পালন করা হয়। এবং ত্রয়োদশী তিথির জন্যই ১৩টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। এর মধ্যে প্রথম প্রদীপটি মৃত্যুর দেবতা যমরাজের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ মুখ করে জ্বালানো হয়। পরিবারের সদস্যদের বিপদ থেকে রক্ষা করতেই এই প্রদীপ দেওয়া হয়। এছাড়াও স্বাস্থ্য, মা লক্ষ্মী ও কুবেরকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে মোট ১৩টি প্রদীপ দেওয়া হয়। অনেক প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ১৩টি প্রদীপ বছরের ১৩টি চন্দ্র মাস বা ১৩টি জীবনীশক্তিরও প্রতীক।

এই দিনটিকে অনেকে বাংলার হ্যালোউইন বলেও অভিহিত করেন। এই দিনে বাড়িতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। মনে করা হয়, এই রাতে আমাদের ১৪ জন্মের পূর্বপুরুষ মর্ত্যে নেমে আসেন তাঁদের বংশধরদের আশীর্বাদ করতে। যেহেতু এই দিনটি চতুর্দশী, তাই ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। এই দিনে প্রদীপ জ্বালালে কোনও অশুভ শক্তি আপনার কাছে ঘেঁষবে না বলে মনে করা হয়। ১৪ প্রদীপ জ্বালিয়ে পূর্বপুরুষদের শান্তির উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করা হয়। এর পাশাপাশি এই দিন ১৪ শাক খাওয়া হয়।

এই দিন ধন-সম্পদের দেবী মা লক্ষ্মী ও ভগবান গণেশের পূজা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই অমাবস্যার অন্ধকারে মা লক্ষ্মী মর্ত্যলোকে নেমে আসেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে ও ঘরের প্রতিটি কোণকে আলোকিত করতে ২১টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। আবার অনেকে বলেন, ত্রেতাযুগে লঙ্কা জয়ের পর, ১৪ বছরের বনবাস শেষ করে এই দিনেই ভগবান শ্রীরাম ও তাঁর স্ত্রী সীতা ও ভ্রাতা লক্ষ্মণ অযোধ্যায় ফিরেছিলেন। অযোধ্যাবাসী তাঁদের প্রিয় রাজাকে স্বাগত জানাতে পুরো নগরীকে প্রদীপের আলোয় সাজিয়ে তুলেছিলেন। এর আগের দিন, অর্থাৎ রবিবার বাংলায় কালীপুজো পালিত হবে। এই ২১টি উপাদানের শুদ্ধিকরণ করার উদ্দেশ্যে ২১টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সংখ্যার বিচারে ২১ এর যোগফল হয় ২+১=৩, যা দেবগুরু বৃহস্পতির সংখ্যা। প্রদীপের আলো ও শুভ সংখ্যার প্রভাবে ঘরের বাস্তুদোষ কাটে ও ঘরে পজিটিভ এনার্জির সঞ্চার হয়।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *