www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

November 5, 2026 2:00 pm

যখন মা লক্ষ্মীর পুজো হয়, তখন তাঁর বাহন প্যাঁচাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যখন মা লক্ষ্মীর পুজো হয়, তখন তাঁর বাহন প্যাঁচাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমনিতে এই পাখিকে সমাজে অনেকে অশুভ বা দুর্ভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন। বাড়ির ছাদে বা জানলার কার্নিশে বসলে অনেকেই ভয় পেয়ে তাড়িয়ে দেন। মনে করা হয়, প্যাঁচা নাকি বিপদের লক্ষণ! তাহলে যাকে সমাজে এত অশুভ মানা হয়, সে হঠাৎ মা লক্ষ্মীর মতো সম্পদের দেবীর বাহন হল কীভাবে? এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক দারুণ গল্প। আসুন, সেই গল্পটাই আজ শোনা যাক। সে অনেক কাল আগের কথা। কথিত আছে একবার সব দেবদেবী এবং পশু-পাখিরা মা লক্ষ্মীর কাছে গিয়ে হাজির হলেন। সবার মনে একটাই ইচ্ছে, সম্পদের দেবীর বাহন হবে। মা লক্ষ্মী পড়লেন মহা ফাঁপড়ে। তবে তিনি কাউকে নিরাশ করলেন না। শুধু একটা শর্ত দিলেন। তিনি বলেন যে, সামনের কার্তিক অমাবস্যার রাতে তিনি পৃথিবীতে যাবেন। সেদিন ঘুটঘুটে অন্ধকারে যে তাঁকে সবার আগে দেখতে পাবে, তাকেই তিনি তাঁর বাহন হিসেবে বেছে নেবেন।

দিন গড়িয়ে এল সেই কার্তিক অমাবস্যা। দেবী লক্ষ্মী শর্ত অনুযায়ী পৃথিবীতে পা রাখলেন। অমাবস্যার সেই রাত ছিল নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। চারদিকে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। সব পশু-পাখি অন্ধকারে পথ হাতড়াচ্ছে। কিন্তু প্যাঁচার তো রাতের বেলাতেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি! সেই গাঢ় অন্ধকারের মধ্যেও সে ঠিক দেবীকে দেখতে পেল। একটুও সময় নষ্ট না করে সে উড়ে গেল মা লক্ষ্মীর কাছে। দেবীর বাহন হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করল। প্যাঁচার এই একাগ্রতা আর তীক্ষ্ণ নজর দেখে দেবী লক্ষ্মী খুব খুশি হলেন। আর সেই রাতেই প্যাঁচাকে নিজের চিরস্থায়ী বাহন হিসেবে বেছে নিলেন তিনি। আসলে প্যাঁচা রাতের পাখি। তার বড় বড় গোল চোখ, নিঃশব্দে ওড়া আর রাতের অন্ধকারে হঠাৎ ডেকে ওঠা, সব মিলিয়ে মানুষের মনে একটা ভয় তৈরি করে। পুরনো দিনে রাতের অন্ধকারকে মানুষ ভয় পেত, আর সেই অজানা ভয় থেকেই প্যাঁচাকে বিপদের লক্ষণ ধরা শুরু হয়। কিন্তু আধ্যাত্মিক দিক থেকে এর আসল সত্যিটা হল, প্যাঁচা অন্ধকারের মধ্যেও পথ দেখতে পায়। ঠিক তেমনই, মানুষের হাতে যখন প্রচুর টাকা-পয়সা আসে, তখন সে যেন অহংকারে অন্ধ না হয়ে যায়। নিজের বিবেক আর বুদ্ধি দিয়ে যেন ঠিক রাস্তা চিনে নিতে পারে, প্যাঁচা আসলে তারই প্রতীক।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *