আকাশে ময়ূরের নাচ! চোখ ঘষতেই ভুল ভাঙল দর্শকদের। সত্যি সত্যি ময়ূর নয়, ড্রোনের কারসাজি। হাজার হাজার আলোর বিন্দু একসঙ্গে জোট বেঁধে আকাশে এক বিরল মুহুর্ত তৈরি হল। আর সেই ঘটনাই রাতারাতি জায়গা করে নিল গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে! মাইসুরু দশেরার জাঁকজমক বরাবরই খবরের শিরোনামে থাকে। তবে এবার তা সব ঐতিহ্যকে যেন ছাপিয়ে গেল। বান্নিমন্তপের প্যারেড গ্রাউন্ডের মাথার ওপর রোববার রাতে যেন অলৌকিক দৃশ্য তৈরি হল। একটা-দুটো নয়, একসঙ্গে ৩,৪৭৩টি ড্রোন উড়ল অন্ধকারের বুক চিরে। ঘন কালো আকাশে একে একে ফুটতে শুরু করল আলোর নানা রূপ। তবে সবচেয়ে বড় চমকটা অপেক্ষা করছিল শেষ পর্বের জন্য। হাজার হাজার ড্রোন মিলে আকাশে তৈরি হল এক বিরাট ময়ূর।
শুধু তাই নয়, ড্রোনের ডানায় ভর করে সেই ময়ূর যেন সত্যি সত্যি পেখম তুলে নাচতে শুরু করেছে! এমন দৃশ্য দেখে সকলে তো হাঁ। ড্রোনের আলোয় পালকের নড়াচড়া দেখে থ বনে গেলেন নিচে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ। আকাশে ড্রোন বা মাল্টোরোটর দিয়ে তৈরি সবচেয়ে বড় পাখির প্রদর্শনী হিসেবে এই ঘটনা রেকর্ড খাতায় নাম তুলেছে। বিশ্বমঞ্চে অনন্য এই নজির গড়েছে আইআইটি দিল্লির ইনকিউবেটেড সংস্থা ‘বটল্যাব ডাইনামিকস’। আর পুরো উৎসবের মূল আয়োজক ছিল চামুণ্ডেশ্বরী ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কর্পোরেশন লিমিটেড (CESC)। সংস্থাটি নিজেদের সোশাল পেজে এই রেকর্ড গড়ার মুহূর্তের ভিডিও ভাগ করে নিতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি সমাজমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ঐতিহ্য আর প্রযুক্তির এমন মেলবন্ধন সত্যি বিরল। শুধু ময়ূর নয়, ড্রোনের খেলায় ফুটে উঠেছিল প্রজাপতি, সিংহ, সুদর্শন চক্র এবং ভগবান কৃষ্ণের নানা মনোরম রূপ।
