ঠিক পুজোর মুহূর্তে পায়ে পা দিয়ে একদল পাকিস্তানপন্থী বাংলাদেশি মুসলিম বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে গন্ডগোল শুরু করেছে। হিন্দু মন্দিরের সামনেই তৈরী করছে ‘বিফ খিচুড়ি’। ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমশ বড় আকার নিয়েছে। ধর্মীয় ভাবাবেগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন এবং ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার নিয়ে তৈরি হয়েছে সংঘাত। দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর দিন, শুক্রবার, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গরু কেটে ভোজের আয়োজন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ইসলামিক ইতিহাস বিভাগের একদল পড়ুয়া। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে ক্যাম্পাসে পশু জবাই না করার নির্দেশিকা জারি করলেও পরে সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয়। বিবিসি বাংলা এবং বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর, সোমবার এই বিতর্কের সূত্রপাত। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন। ওই জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছেই।
গরুর মাংস রান্না হচ্ছে জানতে পেরে হিন্দু পড়ুয়ারা সেখানে আপত্তি জানান। তাঁদের বক্তব্য, মন্দিরের এত কাছে গরুর মাংস রান্নার আয়োজন তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। মন্দিরের কাছাকাছি এই আয়োজন হওয়ায় তাঁরা অসন্তুষ্ট হন এবং অন্য জায়গায় রান্নার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন অধ্যাপক মহম্মদ আজম খান। তিনি একজন সহকারী প্রক্টরকে পাঠান। পরে আয়োজকরা মন্দির থেকে আরও দূরে গিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করেন। বুধবার, ১৪ অক্টোবর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পশু জবাই করা থেকে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং কর্মীদের বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল ওই বিজ্ঞপ্তিতে। বাংলাদেশের ২০১১ সালের পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত কসাইখানার বাইরে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।
