www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

October 24, 2026 3:48 pm

হিন্দু ধর্মে নানা দেবদেবীর নানা বাহন। পরিবহণের মাধ্যম হিসেবে এই সব পশুপক্ষীকে দেবদেবীরা ব্যবহার করে থাকেন

হিন্দু ধর্মে নানা দেবদেবীর নানা বাহন। পরিবহণের মাধ্যম হিসেবে এই সব পশুপক্ষীকে দেবদেবীরা ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে আদতে এরা কেবলমাত্র দেবতার বাহন নয়। কারণ, দেবতার এই বাহন নির্বাচন মোটেও কাকতালীয় কোনও ঘটনা নয়, বরং তা গভীর অর্থবহ। শাস্ত্র বলছে, আসলে এই সব বাহন দেবদেবীদের শক্তির প্রতীক। পুরাণ বলে, সৃষ্টির শুরুতে বাহন বেছে নিতে মর্ত্যে নেমেছিলেন মা লক্ষ্মী। শর্ত ছিল, কার্তিক অমাবস্যার অমল অন্ধকারে সবার আগে যে হাজির হবে, সেই হবে দেবীর বাহন। ঘোর অন্ধকারে যখন সবাই থমকে গেল, তখন ঠিক হাজির হল প্যাঁচা। দেবী তাকেই আপন করে নিলেন। আবার সমুদ্রমন্থনের গল্পেও লক্ষ্মীর সঙ্গেই উঠে আসে প্যাঁচার নাম।

শাস্ত্র বিশারদরা বলেন, প্যাঁচার বাহন হওয়ার পেছনে রয়েছে দারুণ সব প্রতীকী অর্থ। প্যাঁচা মানেই সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি আর চরম সতর্কতা। টাকা পয়সা তো অনেকেই সঞ্চয় করেন। কিন্তু তা ধরে রাখতে গেলে যে বিচক্ষণতা দরকার, তার প্রতীক এই প্যাঁচা। সম্পদ শুধু দেখনদারির বস্তু নয়, তাকে শান্ত ও নিঃশব্দে আগলে রাখতে হয়। প্যাঁচার উড়ে বেড়ানোর মধ্যেই যেন সেই শিক্ষা লুকিয়ে আছে। আমাদের সমাজে অনেকেরই ধারণা, প্যাঁচা নাকি অলক্ষ্মীর প্রতীক। কিন্তু দেবী লক্ষ্মী নিজের বাহন হিসেবে তাকে বেছে নিয়ে সেই ভুল ধারণাই ভেঙে দিয়েছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, ঘুটঘুটে অন্ধকার বা অজ্ঞতার মাঝেও জ্ঞানের আলো খুঁজে নেওয়া সম্ভব।গ্রামবাংলার লোকবিশ্বাসে আজও প্যাঁচার কদর আকাশছোঁয়া। বিশ্বাস করা হয়, যে বাড়িতে প্যাঁচা আসে, সেখানেই মা লক্ষ্মীর কৃপা বর্ষিত হয়। কারণ একটাই। খেতের ইঁদুর সাফ করে এই পাখিই তো বাঁচায় কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *