www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

July 13, 2026 5:46 am

হিন্দু ধর্মের প্রাচীন প্রথাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর আষাঢ় মাসে পালিত হয় অম্বুবাচী।

হিন্দু ধর্মের প্রাচীন প্রথাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর আষাঢ় মাসে পালিত হয় অম্বুবাচী। লোকবিশ্বাস ও প্রচলিত নিয়ম মেনে এই তিনদিন দেশের প্রায় সমস্ত দেবী মন্দিরের গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ থাকে, বন্ধ থাকে পুজোআর্চাও। দেবীর মুখ ঢাকা থাকে। কিন্তু সেই চেনা ছবি আর চিরাচরিত প্রথা ভেঙে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে হুগলির নালিকুলের বিখ্যাত সবুজ কালী মায়ের মন্দির। বিগত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরও অম্বুবাচীর দিনগুলিতে সম্পূর্ণ খোলা থাকছে মন্দিরের দ্বার, চলবে পুজোও।​সাধারণত অম্বুবাচীর দিনগুলিতে দেবীকে ঋতুমতী হিসেবে কল্পনা করা হয় এবং সেই কারণে অশুচিতার দোহাই দিয়ে দেবী দর্শন বন্ধ রাখা হয় মন্দিরগুলিতে। কিন্তু সবুজ কালী মন্দিরের সেবাইত ও পুজো কমিটি এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে চান।

মন্দিরের পীঠাধীশ দেবজ্যোতি অধিকারী জানান, ‘‘ঋতুস্রাব কোনও অপবিত্র বিষয় নয়। বরং তা সৃষ্টির আদি উৎস। এই বৈজ্ঞানিক সত্যকে মেনে নিয়ে এবং নারী সমাজকে ঘিরে থাকা আদিম কুসংস্কারের ধাক্কা দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। বিগত বছরের মতো এবারও অম্বুবাচীতে মায়ের পুজো ও দর্শন কোনও কিছুই বন্ধ থাকবে না।” তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘মা কখনও সন্তানদের অদর্শন চান না। না দেখে থাকতে পারেন না।” মন্দির কর্তৃপক্ষের এই আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ ও সমাজকর্মীরা। তাঁদের মতে, ধর্মের নামে চলতে থাকা নানাবিধ সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। এ বছর ২২ থেকে ২৬ জুন অর্থাৎ আষাঢ়ের ৭ তারিখ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত অম্বুবাচী ব্রত চলবে। এসময়ে দেবী মন্দিরের পাশাপাশি গৃহস্থ বাড়িতেও সিংহাসনে দেবীমূর্তির মুখ ঢেকে রাখা হয়। তবে নিত্যপুজো বন্ধ থাকে না কোথাও। মন্দিরগুলিতে পুজো চলে।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *