আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিতে পৃথিবীতে শুরু হয় এক আদিম উৎসব। সনাতন বিশ্বাস মতে, এই সময়ে ঋতুমতী হন মা ধরিত্রী। দেবীর এই রজস্বলা হওয়ার দশাকে অম্বুবাচী বলে। লৌকিক আচারে কড়া বিধিনিষেধ মেনে অম্বুবাচী পালন করতে হয়। সাধারণত বিধবা নারী, তন্ত্রসাধক, ব্রহ্মচারী এবং সাধু-সন্ন্যাসীরাই এই তিথি পালন করে থাকেন। তবে ব্রতপালন না করলেও কিছু নিয়ম মানা উচিত। বিশেষত কিছু খাবারদাবার খাওয়া উচিত, যাতে পাবেন দেবীর আশীর্বাদ। হবে রোগমুক্তি। এই সময়ে অবশ্যই আম-দুধ খান। শাস্ত্রমতে, শরীর ঠান্ডা রাখতে দুধের সঙ্গে আম মিশিয়ে খেতে হয়। গরমের বাজার ছেয়ে যায় আম। আর বর্ষায় শুরু হয় সাপের উপদ্রব। তাই এই সময়ে দুধ-আম খেলে দেবী তুষ্ট হন। ফলে আর সাপ দংশনের ভয় থাকে না। তবে শুধু খেলেই হবে না। অম্বুবাচী শেষের পর প্রথমেই দেবীকে আম-দুধ নিবেদনও করা উচিত। তাতেই মিলবে দেবীর আশীর্বাদ। পুষ্টিবিদদের মতে, আমে থাকে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এছাড়া থাকে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম। তাই আম যেকোনও ধরনের সংক্রমণ রোধ করে।
একনজরে দেখে নিন অম্বুবাচীতে আর কী কী করতে পারেন –
- অম্বুবাচীতে গুরুপুজো করতে পারবেন।
- গুরু প্রদত্ত মন্ত্রও অনায়াসে জপ করতে পারবেন।
- অম্বুবাচীতে তুলসি গাছের গোড়ার দিকে নজর দিন। ভালো করে মাটি দিয়ে উঁচু করে দিন গোড়া।
- শাক্তমন্ত্রে দীক্ষিতরা মন্ত্র পাঠও করতে পারেন।
- অম্বুবাচীর পর দেবীদের আচ্ছাদন খুলে নিতে ভুলবেন না।
- তারপর দেবীমূর্তি ভাল করে স্নান করিয়ে পুজো করবেন।
দেবীকে আম এবং দুধ নিবেদন করলেই ভাল হয়।
