কার্তিক পুজো হলো হিন্দু পৌরাণিক দেবতা কার্তিকের আরাধনা, যা সাধারণত কার্তিক মাসের সংক্রান্তির দিন পালিত হয়। হিন্দু বিশ্বাসে তিনি শিব ও দুর্গার পুত্র এবং দেব সেনাপতি। সন্তানলাভ এবং সংসারের সমৃদ্ধি কামনায় এই পূজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বিশেষ বিবরণ:তারিখ: প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের শেষ দিন (সংক্রান্তি) এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়।
কোথায় বিখ্যাত: পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে এই পুজো প্রধানত গৃহস্থের বাড়িতে হয়ে থাকে। তবে পশ্চিমবঙ্গের কাটোয়া এবং বাঁশবেড়িয়ায় কার্তিক পুজো অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে বারোয়ারি হিসেবে পালিত হয়।
সন্তানলাভের আচার: নিঃসন্তান বা নববিবাহিত দম্পতিদের সন্তান লাভের কামনায় সমাজের অনেকেই মজার ছলে বাড়িতে কার্তিক ঠাকুর ফেলে দিয়ে আসেন। এরপর দম্পতিরা যৌথভাবে এই পুজোর আয়োজন করেন।
পূজার উপকরণ: কার্তিক পুজোর সময় নতুন ধানের শিষ, রক্তকরবী ফুল, ময়ূরের পালক, তীর-ধনুক ও বাঁশি নিবেদন করা হয়। এছাড়াও পাঁচটি গোটা ফল ও পায়েসের ভোগ দেওয়া হয়।
কার্তিক পুজোর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য:সন্তান ও বিদ্যা: কার্তিকের আরাধনা করলে সুসন্তান লাভ হয় এবং ঠাকুরের পায়ের কাছে রাখা ময়ূরের পালক সন্তানের বিদ্যাক্ষেত্রে রাখলে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ে বলে বিশ্বাস করা হয়।
সম্পদ ও জ্যোতিষ: এই দেবতার পুজোয় সংসারে শ্রীবৃদ্ধি, যশ ও ধনসম্পত্তি বৃদ্ধি পায়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এর মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহের অশুভ প্রভাব কেটে যায়।কার্তিক ঠাকুরের পৌরাণিক কাহিনি ও বিস্তৃত নিয়মাবলি সম্পর্কে আরও জানতে উইকিপিডিয়ার কার্তিক (দেবতা) পাতাটি দেখতে পারেন।
