রাঙ্গামাটি জেলা বীরভূমকে কালীপীঠ বলা হয়। কারণ এই বীরভূম জেলায় এতগুলো কালী মন্দির রয়েছে যেগুলি আপনি একদিনে ঘুরে শেষ করতে পারবেন না। ঠিক তেমনই বীরভূম জেলার মধ্যে রয়েছে ৫১ সতীপীঠের মধ্যে অন্যতম ৫ টি সতীপীঠ। তার মধ্যে অন্যতম বক্রেশ্বর। পর্যটকরা বক্রেশ্বরে ছুটে আসেন শুধু শৈবপীঠের জন্য নয়, সতীপীঠের টানেও। ওড়িশার রেখ-দেউলরীতির স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি বক্রেশ্বরে সাদা বিশাল আকারের শিব মন্দিরের ঠিক দক্ষিণ দিকে দেবী মহিষমর্দিনী মন্দিরের বেদিতে অধিষ্ঠিত পিতলের তৈরি দশভুজার দুর্গামূর্তির নীচেই একটি গর্তের মধ্যে রয়েছে সতীর দেহাংশ-মন। মন্দিরের সেবায়েত ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আগেও একাধিক পিতলের তৈরি দেবীমূর্তি ওই আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কিন্তু সেই মূর্তিগুলির ক্ষয় হওয়ার পরই সেখানে নতুন মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে ঋষি অষ্টাবক্র মুনির নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম হয় বক্রেশ্বর। মা এখানে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা। তাই দুর্গাপুজো এখানে ভীষণ ধুমধামের সঙ্গে হয়। পাশাপাশি দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনাও এখানে নিয়মিত ভাবে হয়ে থাকে। বছরভর ভক্তদের আনাগোনাও থাকে যথেষ্ট।বক্রেশ্বরকে কেন্দ্র করে এখানে আরও পাঁচটি শিবলিঙ্গ রয়েছে। সেগুলি হচ্ছে- কুবেরেশ্বর, সিদ্ধেশ্বর, জ্যোতির্লিঙ্গেশ্বর, কালারুদ্রশ্বর ও জম্ভশ্বর। আর এই সব মন্দিরের পাশে পাশেই রয়েছে এই উষ্ণ জলকুন্ডগুলি। সেগুলি হচ্ছে ভৈরবকুণ্ড, ক্ষারকুণ্ড, অগ্নিকুণ্ড, জীবৎসকুণ্ড। এই সমস্ত কুন্ডের জলে অনেক ঔষধি গুন রয়েছে বলে বিশ্বাস ভক্তদের।
