ভারতীয় পুরান বৈচিত্রে ভরা। বিভিন্ন পুরানে বিভিন্ন দেবদেবী সম্পর্কে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। দেবতা গনেশ সম্পর্কে তেমনই এক প্রচলিত কাহিনীর কথা আজ জানাচ্ছে। গজমুণ্ড, অথচ সুগঠিত নারীদেহ! দেখেছেন এমন কোনও দেবী বিগ্রহ? পুরাণ থেকে তন্ত্রে, গণপতির এই অনন্য নারী রূপ পরিচিত ‘বিনায়কী’, ‘গণেশিনী’ ও ‘বিঘ্নেশ্বরী’ নামে।
শিবের অর্ধাঙ্গিনী দেবী পার্বতী যেমন শক্তির প্রতীক, তেমনই গণেশিনী হলেন ভগবান গণেশেরই এক দৈব নারীশক্তি। তাঁর মাথাটি হাতির এবং ধড়টি একজন নারীর। প্রাচীন মৎস্য পুরাণ, লিঙ্গ পুরাণ এবং অগ্নি পুরাণে এই বিশেষ দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। পুরাণ অনুযায়ী, তিনি বিঘ্নহন্ত্রী শক্তি অর্থাৎ সমস্ত বাধা দূর করার মূল দেবী। সাধকদের মতে, তিনি হলেন মাতৃকাগণের নবম রূপ। বাণাসুর এবং অন্ধকাসুর বধের সময় দেবদেবীদের সাহায্য করতেই মহাদেবের বরদানে ও শক্তির প্রকাশে এই বিশেষ শক্তির আবির্ভাব ঘটেছিল।
ভারতের বিভিন্ন প্রাচীন মন্দির ও স্থাপত্যে আজও এই দেবীর অস্তিত্ব দেখতে পাওয়া যায়। রাজস্থানের সীগড় শহরের দশম শতাব্দীর একটি শিব মন্দিরে এই দেবীর মূর্তি খোদাই করা আছে। তামিলনাড়ুর সুচিন্দ্রম মন্দিরেও চার হাতযুক্ত বিঘ্নেশ্বরীর দেখা মেলে। এছাড়া মধ্যপ্রদেশের ভেরাঘাটের বিখ্যাত চৌষট্টি যোগিনী মন্দিরেও তিনি আসীন। দেবীর চার হাতে শোভা পায় শূল, কুঠার এবং মোদক। ভারতের কোনও কোনও স্থানে তিনি ‘শ্রীবিদ্যা গণপতি’ নামেও আরাধ্যা।
