মহাভারতের এক নতুন কাহিনী আজ তুলে ধরছি আপনাদের সামনে। আমরা জানি রাবনের সঙ্গে মহা যুদ্ধের আগে শ্রীরাম স্মরণ মরেছিলেন দেবী মহামায়াকে। ঠিক তেমনই কৌরব বধের আগে পণ্ডিবেরাও স্মরণে এসেছিলেন দেবী দুর্গার। মহাভারতের বিরাট পর্বে পঞ্চপাণ্ডবের অজ্ঞাতবাসের এক চরম সংকটময় মুহূর্তের উল্লেখ মেলে। পাশা খেলায় হেরে ১২ বছরের বনবাস শেষে পঞ্চপাণ্ডব ও দ্রৌপদী বিরাটনগরে অজ্ঞাতবাস বেছে নেন। শর্ত ছিল, এই এক বছরে পরিচয় প্রকাশ পেলেই ফের ১২ বছরের জন্য বনবাসে যেতে হবে। এই ঘোর সংকটকালে মুনি-ঋষিদের পরামর্শে দেবী দুর্গার শরণাপন্ন হন জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব যুধিষ্ঠির। তিনি দেবীর স্তবে উচ্চারণ করেন, ‘দুর্গাৎ তারয়সে দুর্গে তৎ ত্বং দুর্গা স্মৃতা, জনৈ।’ অর্থাৎ, যিনি সর্বপ্রকার দুর্গতি বা সংকট থেকে উদ্ধার করেন, তিনিই দুর্গা। যুধিষ্ঠিরের আরাধ্যা দেবী ছিলেন অতসী বর্ণা, চতুর্ভুজা, চতুর্বক্তা এবং সিংহবাহিনী
পাণ্ডব জ্যেষ্ঠের ভক্তিতে তুষ্ট হয়ে দুর্গতিনাশিনী বর দেন, কৌরবদের পরাস্ত করে তাঁরা রাজত্ব ফিরে পাবেন। দেবী আশ্বাস দেন, তাঁর নাম স্মরণ করলে কোনও দুর্লভ বস্তুই অপ্রাপ্য থাকে না। কেবল যুধিষ্ঠিরই নন, ভীষ্ম পর্বেও দেবী আরাধনার উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কুরুক্ষেত্রের মহারণে অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের যুদ্ধে যখন অর্জুন বিষাদগ্রস্ত ও বিভ্রান্ত, তখন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে শক্তি আরাধনার পথ দেখান। দুর্যোধনের বিশাল বাহিনী ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য অর্জুনকে দুর্গা স্তোত্র পাঠের উপদেশ দেন মধুসূদন।
কৃষ্ণের নির্দেশে সব্যসাচী অর্জুন দেবীর স্তব শুরু করেন। প্রসন্ন হয়ে দেবী ভক্তকে জয়ী হওয়ার অমোঘ বর দান করেন। কুরুক্ষেত্রের মহাসংগ্রামে পাণ্ডবদের এই অলৌকিক বিজয় আদতে দেবী শক্তিরই বরদান।
