www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

September 27, 2026 10:53 am

নবদুর্গার ষষ্ঠী তিথিতে আদিশক্তি দেবী কাত্যায়নীর আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তেরা।

নবদুর্গার ষষ্ঠী তিথিতে আদিশক্তি দেবী কাত্যায়নীর আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তেরা। মহিষাসুরমর্দিনী রূপে আবির্ভূত এই চতুর্ভুজা দেবী ভক্তদের রোগ, শোক, দুঃখ ও ভয় থেকে মুক্তি দেন। কালিকা পুরাণ থেকে যোগশাস্ত্র— সর্বত্রই রয়েছে তাঁর মহিমার বর্ণনা। শারদীয় ষষ্ঠীর তিথিতে ভক্তরা দেবী কাত্যায়নীর চরণে অঞ্জলি দেন। তিনি মূলত চতুর্ভুজা হলেও শাক্ত মতে তাঁকেই মহাশক্তির আদি রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দেবীর চরণে মধু নিবেদন করলে ভক্তেরা রোগ, শোক ও ভয় থেকে মুক্তি পান। যুদ্ধরূপী দেবীর কৃপায় জীবনের সমস্ত বাধা নিমিষে কেটে যায়। পুরাণ অনুযায়ী, দেবতাদের ক্রোধতেজ থেকে দেবী কাত্যায়নীর উৎপত্তি হয়েছিল। বামন, স্কন্দ এবং কালিকা পুরাণে মহিষাসুর বধের কাহিনিতে দেবীর উপস্থিতি স্পষ্ট। শাস্ত্র মতে, মহর্ষি কাত্যায়নের কন্যা হিসেবে তিনি পরিচিত।

কালিকা পুরাণ অনুসারে, মহর্ষি কাত্যায়ন স্বয়ং প্রথম এই দেবীর পূজার প্রচলন করেছিলেন। তিনি হার ও মুকুটে সুশোভিত এক দিব্য রূপ। তন্ত্রসার অনুযায়ী দেবী কাত্যায়নী দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনী রূপেও পূজিতা হন। তিনি চণ্ডী বা ভদ্রকালীর মতো যুদ্ধের দেবী হিসেবেই সর্বজনবিদিত। দেবতারা তাঁদের নিজস্ব তেজ ও অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন দেবীর হাতে। মার্কণ্ডেয় পুরাণের ‘দেবী মাহাত্ম্যম্’ এবং দেবীভাগবত পুরাণেও দেবীর এই ভয়ংকর ও দিব্যলীলার কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে বর্ণনা করা হয়েছে। যোগশাস্ত্র এবং তন্ত্রসাধনায় দেবী কাত্যায়নীর স্থান অত্যন্ত উচ্চে। মানবশরীরের ষষ্ঠ চক্র অর্থাৎ ‘আজ্ঞা চক্র’-এর অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন কাত্যায়নী। সাধকেরা ধ্যানমগ্ন হয়ে আজ্ঞা চক্রে মনোনিবেশ করতে পারলে সহজেই দেবীর আশীর্বাদ লাভ করেন। এছাড়া তন্ত্রমতে, ভগবান শিবের উত্তর মুখ থেকে দেবী কাত্যায়নীর শুভ আবির্ভাব ঘটেছিল বলে মনে করা হয়।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *