www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

November 6, 2026 6:00 pm

সামনেই দুর্গাপুজো। কত বৈচিত্রে ভরা আমাদের এই দুর্গাপুজো।

সামনেই দুর্গাপুজো। কত বৈচিত্রে ভরা আমাদের এই দুর্গাপুজো। এমন কি মূর্তি স্থাপনেও আছে নানা বৈচিত্র। এমনই এক বৈচিত্রের খোঁজ করবো আমরা। প্রাচীনকালে সচ্ছল গেরস্তের কন্যাদের বিবাহের পর শ্বশুরবাড়িতে একা পাঠানো হত না। সঙ্গে যেতেন দাসী ও বিশ্বস্ত প্রাণের সখীরা। গিরিরাজ হিমালয় এবং মেনকার কন্যা দেবী পার্বতী যখন শিবের উদ্দেশ্যে কৈলাসে যাত্রা করেন, শাস্ত্রানুসারে তাঁর সঙ্গেও গিয়েছিলেন অষ্টসখী। এই আটজনের মধ্যে উমার সবচেয়ে প্রিয় এবং আত্মীয়তুল্য ছিলেন জয়া ও বিজয়া। ফলে মর্ত্যে বাপের বাড়িতে উমার আগমনেও এই দুই সখীর সহাবস্থান নিতান্তই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, মূলধারার বারোয়ারিতে কেন ঠাঁই পান না এই দুই প্রিয় সঙ্গিনী? তবে চেনা ব্যাকড্রপ পার করে বাঙালির পুজো-ইতিহাসের ধূলিমলিন গণ্ডিতে চোখ রাখলে থমকে যেতে হয় বইকি! কোথাও নেই অসুর, নেই চার সন্তান! দশভুজা উমার ডান আর বাম পাশে সগৌরবে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রিয় দুই সখী। জয়া ও বিজয়া।

বর্ধমানের ধেনুয়া গ্রামের গৌরী কেদারনাথ ধামের কালীকৃষ্ণ মন্দিরের কথাই ধরা যাক। সেখানে দেবীর চেনা রণরঙ্গিণী বা ক্রোধাশ্রিত মূর্তি নেই। নেই পদতলে মহিষাসুরও! বরং শ্বেতসিংহের পিঠে আসীন একচালা মণ্ডপে দশভুজার দুই হাতে ধরা দুই সখী জয়া ও বিজয়ার হাত। দেবীর চোখে-মুখে এক উৎফুল্ল, আহ্লাদী বাৎসল্য।একইভাবে পশ্চিম বর্ধমানের মলানদিঘি গ্রামের প্রাচীন ভট্টাচার্য বাড়িতে দুর্গার চার সন্তান পুরোপুরি অনুপস্থিত। সেখানে উমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী শুধুই জয়া ও বিজয়া। সেই সঙ্গে হিমালয়ের জঙ্গলে দেখা মেলা দুর্লভ শ্বেতসিংহের আদলে গড়া হয়েছে দেবী বাহন।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *