মুখ দেখেই বলে দিতে পারেন ভূত-ভবিষ্যৎ। ভক্তদের দেওয়া খাম না খুলেই বলে দিতে পারেন তাঁদের পরিচয়। তাঁর আশীর্বাদে নাকি সেরে যায় দুরারোগ্য ব্যাধি পর্যন্ত। সোশ্যাল মিডিয়া খুললে বাগেশ্বর বাবা-র এমন অনেক কীর্তিই চোখে পড়ে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের দুর্গা পূজা নিয়ে মন্তব্য় করে শিরোনামে এসেছেন সেই বাগেশ্বর বাবা। বলেছেন, দুর্গা পূজা তথা নবরাত্রির সময় আমিষ খাবার রান্না করা যাবে না। কে এই বাগেশ্বর বাবা? কীভাবে এক সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়ে উঠলেন সাধু? বাগেশ্বর বাবা নামে বেশি পরিচিতি হলেও তাঁর আসল নাম ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। মধ্য প্রদেশের ছাতারপুরের গাদা গ্রামে জন্ম ধীরেন্দ্রর। বাবা রাম কৃপাল গর্গ ও মা সরোজ গর্গের দুই সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ্য়তর তিনি। বাবা রাম কৃপাল ছিলেন পেশায় পুরোহিত। দারিদ্য়েই ছেলেবেলা কেটেছে তাঁর। থাকতেন কুঁড়েঘরে। শোনা যায়, গ্রামের মানুষকে নানা কাহিনী শোনানোর অভ্যাস তাঁর ছিল ছোটবেলা থেকেই। ছাতারপুরের একটি গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি।
বাগেশ্বর ধামের ওয়েবসাইটে লেখা আছে একটি কাহিনী। ধীরেন্দ্র তখন কিশোর। এক রাতে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কোনও রকমে বাড়ির খাটের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁরা এতটাই দরিদ্র ছিলেন যে, বাড়ির বাইরে গিয়ে খাবার আনার উপায়ও ছিল না। প্রবল বৃষ্টিতে সেদিন ঘরে খাওয়ার মতোও কিছুই ছিল না। খিদের জ্বালায় তাঁরা কাঁদতে থাকেন। এতে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ধীরেন্দ্র। পরের দিন তিনি তাঁর দাদুর কাছে ছুটে যান। তাঁর দাদু বাগেশ্বর ধাম মন্দিরে থাকতেন। ধীরেন্দ্র প্রশ্ন করেন, এত অলৌকিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁদের পরিবারের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারছেন না তাঁর দাদু? কেন দিতে পারছেন না বিপুল টাকার সন্ধান! এরপর দাদুর কথা মতো স্নান করে গিয়ে পুজোয় বসেন তিনি। তখনই নাকি বালাজির সঙ্গে তাঁর যোগ তৈরি হয়। সেই থেকেই নাকি আধ্যাত্মিক পথে চলা শুরু করেন বাগেশ্বর।
