প্রাণী জগতে কত বিচিত্র ঘটনাই না ঘটে। বিশেষ করে খাদ্য ও যৌন মিলনের জন্য দীর্ঘ লড়াই করতেও প্রস্তুত বন্য প্রাণীরা। তেমনই এক নিদর্শন আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে। কুকুরের যৌনতা নিয়ে বিস্তর হাসাহাসি, তুলনা-প্রতি তুলনা হয়। কোথায় অন্যান্য মানবেতর প্রাণীর যৌন জীবনের চেয়ে কুকুরের যৌনতা পৃথক, তা নিয়েও দীর্ঘ গবেষণা আছে। সেসবের যে নির্দিষ্ট ভিত্তি রয়েছে, অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে দিল আফ্রিকার তিনটি বন্য কুকুর। তারা সম্পর্কে তিন ভাইও। দীর্ঘ উপোসী শরীরে সঙ্গিনীর খোঁজে ৪০০০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা পেরিয়ে গেল তারা! যা কিনা রেকর্ড। আফ্রিকার জাম্বিয়ার কাফুয়ে ন্যাশনাল পার্কের এই চারপেয়ে বাসিন্দাদের গলায় রেডিও কলার পরানো ছিল। তাই তাদের গমনপথের খুঁটিনাটি জানতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। আর তাতেই চমক!
মিলনের জন্য এতটা মরিয়া বুনো কুকুরের দল! তবে তিন সারমেয়র এই ভূমিকায় খুশি কর্তৃপক্ষ। মনে করা হচ্ছে, সঙ্গিনী খুঁজে পেলে এদের বংশবৃদ্ধি হবে প্রাকৃতিকভাবে। পার্কের চার দেওয়ালে আর মিলনের কোনও দরকার প্রয়োজন পড়বে না। ঘটনা ঠিক কী? জানা যাচ্ছে, জাম্বিয়ার কাফুয়ে ন্যাশনাল পার্কে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি স্ত্রী, পুরুষ বন্য কুকুর আনা হয়েছিল। তাদের মিলনের ফলে ১৯টি শাবকেরও জন্ম হয়। কিন্তু হয়ত একই গোষ্ঠীতে থাকা স্ত্রী কুকুরদের আর পছন্দ হচ্ছিল না তিন ভাইয়ের। তাই তারা নতুন মিলনসঙ্গী খুঁজতে পার্কের বেড়াজাল ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। সেটা ছিল ২০২৫ সাল। জিপিএস ট্র্যাকার থাকায় তাদের গতিবিধি ধরা পড়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সোজা পথে মোটেই যায়নি কুকুরের দল। রীতিমতো চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে, চেনা পরিবেশ বাদ দিয়ে নতুন পরিবেশের মধ্যেও হেঁটেছে। চলার পথে যেখানেই বাধা পেয়েছে, গতিপথ বদলেছে তিন সারমেয়। এসব দেখে তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন পার্কের কর্মী ও পশু বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, বোধহয় সঙ্গিনীর পাশাপাশি তারা নতুন পরিবেশও চাইছে।
