www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

September 20, 2026 11:06 am

ভাগবতের পরম তত্ত্ব, পরম শক্তির পূর্ণ বিকাশ এবং রাধারানীর কৃপাসুধা লাভের পূণ্যতিথি রাধাষ্টমী।

ভাগবতের পরম তত্ত্ব, পরম শক্তির পূর্ণ বিকাশ এবং রাধারানীর কৃপাসুধা লাভের পূণ্যতিথি রাধাষ্টমী। বৈষ্ণব ভাবধারার প্রাণকেন্দ্র গৌড়ীয় মঠে উৎসবের আবহ। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভক্তির মেলবন্ধনে এবার উদ্ভাসিত বাগবাজারের মঠ প্রাঙ্গণ।শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণী বৃন্দাবনস্থিত নন্দ মহারাজের প্রিয় বন্ধু বৃষভানু রাজার কন্যা হিসেবে প্রসিদ্ধ। কিন্তু তত্ত্বগতভাবে তিনি শ্রীকৃষ্ণের লীলা-বিলাসে সাহায্য করার জন্য তাঁর বাম অঙ্গ থেকে শক্তিস্বরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। রাধাঠাকুরাণী কৃষ্ণের পূর্ণশক্তি, তিনিই আদিশক্তি এবং সকল শক্তির জননীস্বরূপ। রুক্মিণী, সীতাঠাকুরাণী, লক্ষ্মীদেবী থেকে শুরু করে এই সংসারে যাঁরা শক্তিস্বরূপে পূজিত হচ্ছেন, সকলেই ভগবৎশক্তির স্বরূপিণী শ্রীরাধার অংশ।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে যেমন দুর্গা, কালী, চণ্ডী, শীতলা রাধাঠাকুরাণীর জন্মলীলা বর্ণিত রয়েছে। একসময় শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং গোলকে বিলাসকালে রাধাঠাকুরাণীকে বলেন “আমাকে ভৌম প্রপঞ্চে অবতীর্ণ হয়ে লীলাবিলাস করতে হবে। তুমি আমার সঙ্গে যাবে এবং লীলার সহায়ক হবে।” তখন রাধাঠাকুরাণী বলেছিলেন “আমি প্রপঞ্চে যেতে চাই না। সেখানে অন্য পুরুষের দর্শন হবে, তা আমি চাই না।” কৃষ্ণ বলেছিলেন, “তুমি চিন্তা করো না, তুমি জন্ম নিয়ে প্রথমে আমারই দর্শন পাবে।” পরবর্তীকালে রাধাঠাকুরাণী অন্ধ হয়ে জন্ম নেন এবং শ্রীকৃষ্ণের হস্তস্পর্শে তাঁর চোখ খোলে। সেই সময় রাধারানী প্রথম কৃষ্ণকেই দর্শন করেন এবং মনে সর্বদা কৃষ্ণচিন্তা করতে করতে যাবতীয় লীলা শেষ করেন। রাধারানী কৃষ্ণ আরাধনায় শ্রেষ্ঠা। তাঁর সম্বন্ধে জড় জগতের জীবের কোনও প্রকার ধারণা থাকতে পারে না। এমনকী শ্রীমদ্ভাগবতে তাঁর নামও গোপন করা হয়েছে। তিনি পার্থিব মানবধারণার অতীত এক সত্তা। পুরাণে রাধা নামের এইরকম মহিমার বর্ণনা রয়েছে যে ‘রা’ শব্দ উচ্চারণ করলেই কৃষ্ণ উল্লসিত হন এবং ‘ধা’ শব্দ উচ্চারণকারী ব্যক্তির দিকে কৃষ্ণ পিছন পিছন ধাবিত হন। অর্থাৎ রাধা নাম উচ্চারণের ফলে কৃষ্ণ সুখী হন। বাগবাজার গৌড়ীয় মঠে এ বছর অনুষ্ঠীত হচ্ছে ১০৭তম বর্ষপূর্তি রাধাষ্টমী মহোৎসব। প্রত্যেক বছর বিশেষ ধুমধামের সঙ্গে এই উৎসব পালিত হয়। পূর্বদিন অধিবাস কীর্তন এবং এই দিন ভোর ৪টা থেকে প্রভাতী কীর্তন, স্তবস্তুতি পাঠ, আরতি, পরিক্রমা, শৃঙ্গার, পূজা-অর্চনা ইত্যাদি এবং ১২টার সময় অভিষেক মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। তার পরে প্রায় ১৫০-র বেশি ব্যঞ্জন, পিঠা, পান ইত্যাদি দিয়ে ভোগ হয়।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *