www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

April 14, 2026 11:19 am

সে বহু বছরের কথা। দিঘা লাগোয়া চন্দনেশ্বর মন্দির দাঁড়িয়ে আছে এক বিরাট ইতিহাস নিয়ে।

সে বহু বছরের কথা। দিঘা লাগোয়া চন্দনেশ্বর মন্দির দাঁড়িয়ে আছে এক বিরাট ইতিহাস নিয়ে। চন্দনেশ্বর মন্দিরের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে এক ব্রাত্য গৃহবধূর চোখের জল আর ভক্তির গল্প। কথিত আছে, পাঁচশো বছর আগে এই চত্বর ছিল গভীর হোগলা বন আর কাজু গাছের জঙ্গল। তেলি ঘরের মেজো বউ লক্ষ্মী যখন গরু চরাতে যেতেন, তাঁর কপালে জুটত শুধুই লাঞ্ছনা। গরু দুধ দিচ্ছে না— এই ‘অপরাধে’ পরিবার থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল তাঁকে।
সেই ঘরছাড়া লক্ষ্মীই একদিন বনের গভীরে দেখতে পান এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। তাঁর গরুটি একটি চম্পক গাছের তলায় দাঁড়িয়ে নিজে থেকেই দুধ ঢালছে মাটির ওপর। আর সেখান থেকেই উঁকি দিচ্ছে এক শিবলিঙ্গ। আকাশ থেকে আপনিই ঝরে পড়ছে ফুল আর বেলপাতা। আর পুজো মিটলেই সেই লিঙ্গ ফের মিলিয়ে যাচ্ছে পাতালের গভীরে। সেই অভাগী লক্ষ্মীর হাত ধরেই জঙ্গল কেটে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আজকের এই জাগ্রত মন্দিরের। আজও তাই ঘরছাড়া অসহায় মহিলারা সংসার ফিরে পেতে এখানে এসে ‘হত্যে’ দিয়ে পড়ে থাকেন।

এখানে মহাদেবের কোনও মূর্তির দেখা মিলবে না। পাতাল ফুঁড়ে উঠে আসায় এখানে শিব ‘স্বয়ম্ভূ’। চন্দন গাছের গোড়ায় প্রথম দেখা মিলেছিল বলে নাম হয়েছে ‘চন্দনেশ্বর মন্দির’। প্রাঙ্গণে থাকা প্রাচীন ‘কল্পবৃক্ষ’-এ আজও হাজারো সুতো ঘোরে ভক্তদের মনস্কামনা নিয়ে। নিঃসন্তান দম্পতি থেকে শুরু করে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত মানুষ— চন্দনেশ্বরের দুয়ার থেকে কেউ খালি হাতে ফেরেন না বলেই দাবি স্থানীয়দের। এই মন্দিরের উৎসব মানেই যেন এক আদিম শক্তির আরাধনা। বিশেষ করে চড়ক মেলা চলাকালীন যে ‘পাঠ পর্ব’ অনুষ্ঠিত হয়, তার বর্ণনা শুনলে আজও মানুষের গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। চড়ক মেলা উপলক্ষে চন্দনেশ্বরে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। ১৩ দিনের এই মেলায় শেষ লগ্নে এসে ভক্তদের উন্মাদনা যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে। বহু ভক্ত টানা উপবাস থেকে ‘কল্পবৃক্ষ’-এ সুতো বেঁধে প্রার্থনা করেন। চড়কের দিন থেকে শুরু হয় এই মেলা।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *