হিন্দু ধর্মে ও সংস্কৃতিতে কলাগাছ অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত。প্রায় সব শুভ কাজ, পূজা-পার্বণ ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে কলাগাছের অপরিহার্য উপস্থিতি রয়েছে। এটি মূলত উর্বরতা, প্রাচুর্য, সমৃদ্ধি এবং শ্রী বিষ্ণুর আশীর্বাদের প্রতীক।
১. ধর্মীয় মাহাত্ম্য ও বিশ্বাস:বিষ্ণুর প্রতীক: হিন্দু শাস্ত্রে কলাগাছকে সাক্ষাৎ ভগবান বিষ্ণুর প্রতীক বলে মনে করা হয়。 এছাড়াও বিশ্বাস করা হয় যে কলাগাছে স্বয়ং বিষ্ণু এবং মা লক্ষ্মী বাস করেন。বৃহস্পতিবারে পূজা: প্রতি বৃহস্পতিবার কলাগাছের পূজা করলে কোষ্ঠীর বৃহস্পতি গ্রহের অবস্থান শক্তিশালী হয়。 এর ফলে পরিবারে সুখ, শান্তি ও ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং দাম্পত্য জীবনের সকল বাধা দূর হয়।
মঙ্গল দোষ খণ্ডন: যাদের কুণ্ডলীতে মঙ্গল দোষ থাকে, অনেক সময় শাস্ত্রমতে তাদের বিয়ের আগে কলাগাছের সাথে বিয়ে দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে। এতে অশুভ প্রভাব কেটে যায়।
২.পূজা-পার্বণে কলাগাছের ব্যবহার:কলাবউ বা নবপত্রিকা: দুর্গাপূজার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কলাবউ。 সপ্তমীর সকালে কলাগাছসহ আটটি উদ্ভিদ (বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু, ধান, হলুদ ও জয়ন্তী) একত্রিত করে লাল পেড়ে শাড়ি পরিয়ে গণেশের বধূ বা নবপত্রিকা রূপে পূজা করা হয়。মণ্ডপ সাজানো: যেকোনো বড় পূজা, বিবাহ বা উৎসবে মঙ্গলময় পরিবেশ তৈরিতে প্রবেশদ্বারের দু’পাশে দুটি কলাগাছ বেঁধে রাখা শুভ বলে মনে করা হয়।
৩. বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী গুরুত্ব:বাস্তুমতে, বাড়ির উত্তর-পূর্ব বা পূর্ব দিকে কলাগাছ লাগানো অত্যন্ত শুভ। এটি বাড়ির আশেপাশের পরিবেশে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করে।পূজায় ব্যবহৃত কলার পাতা ও কলা অত্যন্ত পবিত্র ফল হিসেবে দেবতাদের নৈবেদ্য দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়।
