www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

September 9, 2026 6:26 pm

এটা পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহর। ব্যস্ত এই জনপদের মাঝেই বারোয়ারিতলা এলাকায় নীরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি পুরনো বাড়ি।

এটা পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহর। ব্যস্ত এই জনপদের মাঝেই বারোয়ারিতলা এলাকায় নীরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি পুরনো বাড়ি। চারপাশের কোলাহলের ভিড়ে আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, এই বাড়িটির প্রতিটি ইটে মিশে আছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সময়ের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়ি যেন কাটোয়ার বুকে ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। এই বাড়িটির মালিক ছিলেন বিশিষ্ট দেশপ্রেমী ও চিকিৎসক ডক্টর গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, যিনি এলাকাবাসীর কাছে ‘গুণীবাবু’ নামেই পরিচিত ছিলেন। ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলন প্রতিটি পর্যায়ে কাটোয়া মহকুমায় স্বাধীনতার আগুন ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ে কাটোয়া শহরে তাঁর এই বাড়িটি ছিল বিপ্লবীদের এক অলিখিত আস্তানা, যেখানে বাংলার বহু নামী বিপ্লবীর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বাড়িটির সামনের দিকেই দোতলায় ছিল গুণীবাবুর বৈঠকখানা। সেখানে পৌঁছাতে হলে নিচ থেকে একটি লোহার ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হতো। আজও সেই সিঁড়ির দিকে তাকালে শিহরণ জাগে।

এই সিঁড়ি বেয়েই একদিন দোতলায় উঠেছিলেন দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর পদধূলিতে ধন্য হয়েছিল এই বাড়ির আঙিনা, যা আজও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে আবেগের জায়গা হয়ে রয়েছে। গুনিবাবুর সেই বৈঠকখানায় আজও যেন সময় থমকে আছে। নেতাজী যে চেয়ারে বসেছিলেন এবং যে ছোট্ট টেবিলটি ব্যবহার করেছিলেন, সেগুলি আজও অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করে রেখেছেন গুণীবাবুর বংশধরেরা। শুধু স্মৃতি নয়, প্রামাণ্য দলিল হিসেবেও রয়ে গেছে নেতাজীর নিজের হাতে লেখা একটি চিঠি, যাতে আজও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান তাঁর স্বাক্ষর। পরিবারের কাছে এই সমস্ত স্মৃতিচিহ্ন অমূল্য সম্পদ।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *