www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

October 30, 2026 7:56 pm

অমাবস্যার আঁধারে চরাচর ঢেকে যায়। প্রদীপ জ্বলে ওঠে সাধনমার্গে।

অমাবস্যার আঁধারে চরাচর ঢেকে যায়। প্রদীপ জ্বলে ওঠে সাধনমার্গে। ভাদ্রের গাঢ় তমসায় যেন এক অলৌকিক মায়াজাল বোনে নিশীথিনী। প্রকৃতি তখন নীরব, আর সাধকের অন্তর উদ্বেল। সেই চরম তিথিই কৌশিকী অমাবস্যা—যেখানে লৌকিক ও অলৌকিকের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায় এক অমোঘ দেবীমাহাত্ম্যে। ভাদ্র অমাবস্যা কীভাবে হয়ে উঠল ‘কৌশিকী’? জেনে নিন শাস্ত্রকথা। সাধনমার্গের বিশ্বাস, এই বিশেষ তিথিতে মহাজাগতিক শক্তির এক অপূর্ব মিলন ঘটে। খুলে যায় স্বর্গ ও নরকের সূক্ষ্ম দুয়ার। ফলে শুভ ও অশুভ—দুই চেতনার ধারাই তখন ধরাতলে প্রবহমান। এই তিথিতেই তন্ত্রসাধনার শিখরে পৌঁছেছিলেন তারাপীঠের সাধক বামাক্ষ্যাপা। মা তারার চরণে সমর্পিত সেই সাধনার স্মৃতি বহন করে আজও তারাপীঠে সারারাত জেগে থাকে মহাপুজোর আলো। শুধু সনাতন বিশ্বাসেই নয়, বৌদ্ধ ধারাতেও এই রাতের তাৎপর্য সুগভীর।

তবে এই অমাবস্যার প্রকৃত রহস্য লুকিয়ে রয়েছে দেবী কৌশিকীর আবির্ভাবে। পুরাণকথা অনুাসারে, ব্রহ্মা বর দিয়েছিলেন দুই পরাক্রান্ত অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভকে। শর্ত ছিল, মাতৃগর্ভে জাত নয়—এমন কোনও নারীই কেবল তাঁদের বিনাশ করতে পারবেন। এই অযোনিসম্ভূতা নারীর খোঁজেই যখন দেবকুল ব্যাকুল, তখনই ঘটে এক দেবী-লীলা। স্বামীর মুখে নিজের কৃষ্ণবর্ণের সম্বোধন শুনে অভিমানে বিরহিনী হন দেবী পার্বতী। মানস সরোবরের তীরে শুরু করেন কঠোর তপস্যা। তপ শেষে সরোবরের জলে স্নান করতেই দেবীর তনু থেকে ঝরে পড়ে সমস্ত কৃষ্ণকোষ। গায়ের রং হয়ে ওঠে পূর্ণিমার চাঁদের মতো দীপ্তিময়। আর সেই ঝরে পড়া কৃষ্ণকোষ থেকেই উদ্ভূত হন এক অপরূপা, ঘোর তমোময়ী দেবী। কোষ থেকে জন্ম বলেই তিনি ‘কৌশিকী’।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *