পাহাড়ি মন্দির ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি মন্দির । মন্দিরটি শিবকে উৎসর্গীকৃত । এই মন্দিরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 2140 ফুট এবং ভূমি থেকে 350 ফুট উপরে অবস্থিত। এই পাহাড়ের মন্দিরে শিবকে লিঙ্গ রূপে পূজা করা হয়। শিবরাত্রি এবং শ্রাবণ মাসে এখানে শিব ভক্তদের বিশাল ভিড় হয় । পাহাড়ের উপর অবস্থিত শিবের এই মন্দিরটি দেশের স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশদের দখলে ছিল এবং তারা এখানে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ফাঁসি দিত। ভারত বিভাজনের পর থেকে এই মন্দিরে ধর্মীয় পতাকার পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবসে জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করা হয় । এটি দেশের প্রথম মন্দির যেখানে ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাঁচি রেল স্টেশন থেকে ৭ কিমি দূরে অবস্থিত শিবের এই মন্দিরটি পাহাড়ি মন্দির নামেও পরিচিত। পাহাড়ি বাবা মন্দিরের পুরোনো নাম ছিল তিরিবুরু, যা পরে ব্রিটিশ আমলে ‘হ্যাঙ্গিং গ্যালোস’ বা ‘ফাঁসির মঞ্চ’ নামে পরিবর্তিত হয়, কারণ ব্রিটিশ শাসনামলে এখানে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ফাঁসি দেওয়া হতো ।
স্বাধীনতার পর প্রথম ত্রিবর্ণ পতাকাটি এখানেই, রাঁচিতে উত্তোলন করা হয়েছিল, যেটি উত্তোলন করেন রাঁচিরই এক স্বাধীনতা সংগ্রামী কে সি দাস । তিনি এখানকার শহীদ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতি ও সম্মানে ত্রিবর্ণ পতাকাটি উত্তোলন করেন। সেই সময় থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস এবং প্রজাতন্ত্র দিবসে এখানে ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাহাড়ের মন্দিরে একটি পাথর আছে, যেখানে ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ই আগস্টের মধ্যরাতে দেশের স্বাধীনতার বার্তা লেখা রয়েছে।
l
