www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

April 15, 2026 1:27 pm

ভারতে এমন অনেক মন্দির আছে, যেই মন্দিরে আছে অনেক রহস্য।

ভারতে এমন অনেক মন্দির আছে, যেই মন্দিরে আছে অনেক রহস্য। পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথ মন্দিরটি ভারতের চার ধামের (চারটি পবিত্র তীর্থস্থান) অন্যতম। এই মন্দিরে ধুমধাম করে রথযাত্রার উৎসব পালিত হয় পুরীতে। পুরাণ অনুসারে, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন প্রভু বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভ করার পর এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। কথিত আছে যে, প্রভু স্বপ্নে তাঁকে নীল মাধবের সন্ধান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এই মন্দিরের কয়েকটি বিষয় এখনও মানুষকে ভাবায়।

  • লাল পতাকার রহস্য

মন্দিরের চূড়ায় সর্বদা একটি লাল পতাকা ওড়ে। এটি হয়তো আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ প্রথা বলেই মনে হতে পারে, কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হল—এই পতাকা সর্বদা বাতাসের বিপরীত দিকে ওড়ে। সব সময়ই এই ঘটনাই ঘটে। অনেকেই এটাকে ঈশ্বরের কোনও সংকেত হিসেবে মনে করেন-যেন তিনি এমন কোনও বার্তা দিচ্ছেন, যা পুরোপুরি অনুধাবন করা মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। এই প্রথাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও একটি বিশেষ ঐতিহ্য। প্রতিদিন একজন পুরোহিত কোনও রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই মন্দিরের প্রায় ২০০ ফুট উঁচু চূড়ায় আরোহণ করেন এবং সেই পতাকাটি পরিবর্তন করেন।

  • সমুদ্রের গর্জন মন্দিরে প্রবেশ করলেই মিলিয়ে যায়

জগন্নাথ মন্দিরটি সমুদ্র থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। বিস্ময়কর ব্যাপার হল, মন্দিরের মূল প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ পুরোপুরি মিলিয়ে যায়। আবার যেই বাইরে পা রাখা মাত্রই সেই শব্দ পুনরায় শোনা যায়। একারণেই ভক্তরা বলে যে, এটি কেবল একটি মন্দির নয়, বরং এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান হনুমানকে এই মন্দির রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল; তিনি সমুদ্রের গর্জন স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন, যাতে প্রভু জগন্নাথ শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারেন।

  • প্রসাদ নিবেদনের অনন্য রীতি

এখানে প্রতিদিন সাতটি মাটির পাত্র একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে প্রভুর প্রসাদ রান্না করা হয়। সাধারণত নিয়ম হল নিচের পাত্রের খাবার আগে রান্না হবে, কিন্তু এখানে ঘটে ঠিক তার উল্টো—সবচেয়ে ওপরের পাত্রের খাবারটিই সবার আগে প্রস্তুত হয়ে যায়। এছাড়া, দর্শনের জন্য যত মানুষই আসুক না কেন, প্রসাদ কখনও ফুরিয়ে যায় না কিংবা নষ্টও হয় না; প্রতিদিন ঠিক ততটুকু পরিমাণই প্রস্তুত হয়, যতটুকু প্রয়োজন।

  • মন্দিরের কোনও ছায়া পড়ে না

কথিত আছে যে, মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলী এমনভাবে নির্মিত যে, দিনের কোনও সময়েই এর ছায়া মাটিতে পড়তে দেখা যায় না। এই বিষয়টি আজও মানুষকে বিস্মিত করে।

  • কাঠের তৈরি অনন্য বিগ্রহসমূহ

জগন্নাথ মন্দিরের আরও এটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এখানকার বিগ্রহ বা মূর্তিগুলি। অধিকাংশ মন্দিরে যেখানে পাথর বা ধাতু নির্মিত বিগ্রহ দেখা যায়, সেখানে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার বিগ্রহগুলো তৈরি হয়েছে নিম কাঠ দিয়ে। আর এর সবচেয়ে অনন্য দিকটি হল, প্রতি ১২ থেকে ১৯ বছর অন্তর ‘নবকলেবর’ নামক এক বিশেষ ও গোপনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিগ্রহগুলো পরিবর্তন করা হয়।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *