‘ভূত’ শব্দটা আমাদের বেশ চমকে দেয়। বেশ গা ছম ছম করা ব্যাপার। তারমধ্যে যদি পুরো গ্রাম শুদ্ধই ‘ভূত’ তাহলে তো কথাই নেই। অমাবস্যার থমথমে রাতে সেই সব মায়াভূমে পা রাখা মানেই এক অচিন রোমাঞ্চের মুখোমুখি দাঁড়ানো। রহস্যের সন্ধানে আপনিও কি পা বাড়াতে চান অশরীরীদের সেই গুপ্ত ডেরায়? তা হলে পশ্চিমবঙ্গের কিছু ভূতুড়ে ঠিকানায় আজ আপনার নিমন্ত্রণ। যদি সত্যি সত্যি ভূত নিয়ে কোনও রকম আগ্রহ থেকে থাকে, তাহলে এই ৩ গ্রাম ভুলেও মিস করবেন না।
- বাঁকুড়ার চালিবাড়িরডিহি
বাঁকুড়ার চালিবাড়িরডিহি যেন এক জ্যান্ত লোকগাথা। একসময় জমজমাট গ্রাম ছিল। কিন্তু ভয়াবহ মহামারির থাবায় সব শেষ হয়ে যায়। আশির দশকে লক্ষ্মণ বাউরি নামে এক ব্যক্তি সাহস করে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেন। তাঁর দেখাদেখি ফিরে আসে আরও ১৫টি পরিবার। কিন্তু বছর দশেক আগের এক মর্মান্তিক শিশুহত্যার ঘটনা ফের ফিরিয়ে আনে সেই পুরনো আতঙ্কের অভিশাপ। রাতারাতি খাঁ খাঁ হয়ে যায় গোটা গ্রাম। আজ পুরো গ্রামে বাস কেবল লক্ষ্মণ বাউরি ও তাঁর পরিবারের। সন্ধ্যার পর সেখানে শুধু শুনশান নীরবতা। - বীরভূমের কঙ্কালীতলা রোড
বীরভূমের সতীপীঠ কঙ্কালীতলার আশপাশের এলাকা নিয়ে বহু দিন ধরেই নানা গল্প প্রচলিত। বিশেষ করে কোপাই নদীর পাড় সংলগ্ন পুরানো শ্মশান ও পরিত্যক্ত রাস্তা। রাত বাড়লেই নাকি সেই রাস্তায় অস্পষ্ট ছায়াশরীর ঘুরে বেড়ায়। সেই অদ্ভুত দর্শন ছায়া এতটাই ভয়াল যে দেখলে শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, অতৃপ্ত আত্মার দীর্ঘশ্বাস এখানে স্পষ্ট অনুভব করা যায়। গভীর রাতে নাকি ভেসে আসে নূপুরের ঝিনিঝিনি শব্দ। - বর্ধমানের বেগমপুর
পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের সীমান্ত ঘেঁষা বেগমপুর এবং কালনার পুরানো নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ ঘিরে আবর্তিত হয় এক অন্য রোমাঞ্চ। শতবর্ষ প্রাচীন এই পরিত্যক্ত ইমারতগুলিতে একসময় অত্যাচারিত প্রজাদের রক্ত ঝরেছিল। স্থানীয়দের দাবি, অমাবস্যার রাতে কুঠিরের জীর্ণ দেওয়াল থেকে নাকি আর্তনাদ ভেসে আসে। ভারী অন্ধকারে ভাসতে থাকে কান্নার শব্দ। বাতাসে জেগে ওঠে ব্রিটিশ আমলের এক অলৌকিক নিস্তব্ধতা।
