www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

August 11, 2026 10:38 am

হিন্দু ধর্মের ধর্মপ্রাণ মানুষেরা কখনো দরজায়, কখনো ঘটে কখনোবা দেওয়ালে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকি।

হিন্দু ধর্মের ধর্মপ্রাণ মানুষেরা কখনো দরজায়, কখনো ঘটে কখনোবা দেওয়ালে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকি। এই চিহ্ন খুবই পবিত্র ও ধৰ্মীয় বিধি সম্মত। স্বস্তিকের ভিতরের ওই চারটে বাহু বা বাঁকানো লাইন কি শুধুই একটা নকশা? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে প্রাচীন কোনও বিজ্ঞান ও দর্শন? কী বলছে শাস্ত্র? সংস্কৃত শব্দ ‘সু’ এবং ‘অস্তি’ মিলে তৈরি হয়েছে ‘স্বস্তিক’ শব্দটি। এর অর্থ হল, ‘যা শুভ বা ভালো, তারই অস্তিত্ব’। অর্থাৎ, যে কোনও নেগেটিভ এনার্জিকে দূরে সরিয়ে পজিটিভ এনার্জিকে টেনে আনাই হল এই চিহ্নের মূল কাজ। স্বস্তিকের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে এর ভিতরের চারটে বাহুতে। সনাতন ধর্ম এবং বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, এই চার বাহু বেশ কয়েকটি গভীর অর্থ বহন করে।

  • চার দিক: এই চারটে বাহু মূলত চার দিকের (পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ) প্রতীক। এর মানে হল, চার দিক থেকেই যেন শুভ শক্তি এবং শান্তি আপনার সংসারে প্রবেশ করে।
  • জীবনের চার লক্ষ্য: হিন্দু দর্শনে মানুষের জীবনের চারটে মূল লক্ষ্য বা ‘পুরুষার্থ’ রয়েছে। সেগুলি হল, ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ। স্বস্তিকের চার বাহু আমাদের জীবনের এই চারটে লক্ষ্যের কথা মনে করায়। বলা হয়, জীবনে ব্যালেন্স বা ভারসাম্য বজায় রাখতে এই চারটে লক্ষ্যেরই সমান গুরুত্ব রয়েছে।
  • চার বেদ: অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, এই চার বাহু আসলে চারটে বেদের (ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ এবং অথর্ববেদ) জ্ঞানকে একসঙ্গে ধরে রেখেছে।
  • চার আশ্রম: প্রাচীন ভারতের নিয়ম অনুযায়ী মানুষের জীবনের চারটে ধাপ রয়েছে—, ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ এবং সন্ন্যাস। স্বস্তিকের চার বাহুর সঙ্গে এই চার আশ্রমেরও মিল রয়েছে। খেয়াল করলে দেখবেন, স্বস্তিকের ঠিক মাঝখানে একটা বিন্দু বা যোগসূত্র থাকে। পুরাণ মতে, এটি হল গোটা ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু, যা সব কিছুকে একসঙ্গে ধরে রাখে। আর স্বস্তিক সব সময় লাল রঙের সিঁদুর দিয়ে আঁকা হয়। কারণ, লাল রং হল শুভ শক্তি বা পজিটিভ এনার্জির প্রতীক।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *