www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

April 14, 2026 10:32 am

বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে তুষ্ট করতে অপরিহার্য হল পলাশ ফুল।

বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে তুষ্ট করতে অপরিহার্য হল পলাশ ফুল। যা বসন্তের আগমনী বার্তা বহন করে। এই ফুল জ্ঞান ও সৃজনশীলতার প্রতীক। তাই এই ফুল ছাড়া পুজো অসম্পূর্ণ মনে করা হয়। পলাশ বুদ্ধিমত্তা ও শিল্পকলার প্রতিনিধিত্ব করে বলে এর ব্যবহার আবশ্যক। শাস্ত্র মতে, দেবী সরস্বতী ‘পলাশপ্রিয়া’, তাই এই ফুল তার পূজায় অপরিহার্য এবং এটি জ্ঞানের দেবীর কাছে বিশেষ প্রিয়।পলাশের উজ্জ্বল লালচে-কমলা রং জ্ঞান, বুদ্ধি এবং শৈল্পিক প্রকাশকে বোঝায়, যা সরস্বতী পূজার মূল উদ্দেশ্য।

পলাশ ফুলকে হিন্দু পুরাণে পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এর তিনটি পা-তা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের প্রতীক, যা একে অত্যন্ত শুভ করে তোলে। বসন্তকালে ফোটা রক্তিম পলাশ ফুল ও শ্বেতশুভ্রা দেবীর মধ্যেকার বৈপরীত্য, যা অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো আসার প্রতীক। পুরাণ মতে, পলাশকে অগ্নিদেবের রূপ মনে করা হয়, যা অজ্ঞতাকে ভস্ম করে এবং বসন্তের আগমনী বার্তা দেয়, তাই বসন্ত পঞ্চমীতে এই ফুল নিবেদন করা হয়। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, পলাশ ফুল অশুভ শক্তি দূর করে শুভ শক্তিকে আহ্বান করে। এটি জ্ঞানের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং ভক্তের ডাকে সাড়া দিতে সরস্বতীকে উদ্বুদ্ধ করে। বাঙালি সংস্কৃতিতে সরস্বতী পূজা ও পলাশ ফুল সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে।শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসব থেকে শুরু করে গ্রাম-বাংলার আনাচে-কানাচে পলাশ ফুল দিয়েই দেবীর আরাধনা করা হয়। প্রকৃতির সঙ্গে দেবীর এই নিবিড় সংযোগই তাঁকে ‘পলাশপ্রিয়া’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। এছাড়াও দেবী সরস্বতীর পূজা অনুষ্ঠিত হয় মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে, যা ‘বসন্ত পঞ্চমী’ নামে পরিচিত। এই সময় প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটে এবং চারপাশ পলাশ ফুলে ছেয়ে যায়। বসন্তের এই বিশেষ ফুলটি দেবীর অত্যন্ত প্রিয় বলে বিশ্বাস করা হয়, তাই তাঁকে ‘পলাশপ্রিয়া’ বলা হয়। পলাশ ফুল যেমন বসন্তের সৌন্দর্যের আধার, তেমনি এটি দেবী সরস্বতীর সৃষ্টিশীল ও জ্যোতির্ময় সত্তারও প্রতিফলন। তাই জ্ঞান ও বিদ্যার দেবীকে সন্তুষ্ট করতে এই বিশেষ ফুলটি অপরিহার্য।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *