www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

September 29, 2026 3:16 pm

শারদীয় উৎসবের আলো ঝলমলে মণ্ডপে সবাই যখন দেবী দুর্গার সামনে হাত জোড় করেন, তখন প্রতিমার দিকে তাকালে আরও একটি মুখ নজরে পড়ে।

শারদীয় উৎসবের আলো ঝলমলে মণ্ডপে সবাই যখন দেবী দুর্গার সামনে হাত জোড় করেন, তখন প্রতিমার দিকে তাকালে আরও একটি মুখ নজরে পড়ে। রক্তচক্ষু, হাতে তরবারি, কিন্তু দেবীর বাহন সিংহ আর ত্রিশূলের নিচে ধরাশায়ী। তিনি মহিষাসুর। দুর্গতিনাশিনীর পুজো তো নতুন নয়, তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, অসুরের মূর্তিও একই সঙ্গে পূজিত হয় বিশ্বজুড়ে। পবিত্র মণ্ডপে অসুর কেন স্থান পান? নেপথ্যে রয়েছে পুরাণ আর শাস্ত্রের এক আশ্চর্য উপাখ্যান। পুরাণ অনুযায়ী, ব্রহ্মার বর পেয়ে অপরাজেয় হয়ে উঠেছিলেন মহিষাসুর। কোনও পুরুষ তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। ক্ষমতার দম্ভে দেবরাজ ইন্দ্রকে হারিয়ে স্বর্গ দখল করেন তিনি। অসহায় দেবতারা তখন শরণাপন্ন হন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের। ত্রিদেবের উপস্থিতিতে সমস্ত দেবতার সম্মিলিত তেজ থেকে জন্ম নেন এক পরমা সুন্দরী নারী—দেবী আদ্যাশক্তি। দেবতাদের দেওয়া নানাবিধ অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দেবী যাত্রা করেন অসুর বধের উদ্দেশ্যে।

কাহিনী অনুযায়ী, মহিষাসুর মোট তিনবার জন্ম নেন। দেবীও তিন ভিন্ন রূপে তাঁকে সংহার করেন। প্রথমে অষ্টাদশভুজা উগ্রচণ্ডা, দ্বিতীয়বার ভদ্রকালী এবং তৃতীয়বার দশভুজা দুর্গা রূপে অসুরের বিনাশ ঘটে। কিন্তু সংহারের ঠিক আগে ঘটে এক অনন্য ঘটনা। স্বপ্নে ভদ্রকালীর রূপ দেখে দেবী আরাধনায় মগ্ন হন মহিষাসুর। দেবীর কৃপা পেয়ে অসুর কোনও অমরত্ব চাননি। তাঁর একমাত্র আকুল প্রার্থনা ছিল, দেবীর হাতে প্রাণ হারালেও যেন দেবীর শ্রীচরণে চিরকাল পুজো পান। ভক্তের আকুতিতে গলে যান মহামায়া। বর দিয়ে ভদ্রকালী জানান, উগ্রচণ্ডা, ভদ্রকালী ও দুর্গা—এই তিন রূপেই দেবীর পদতলে স্থান পাবেন মহিষাসুর। দেবতা, মানব ও রাক্ষস—সবাই দেবীপুজোর সঙ্গে তাঁকেও পুজো করবে।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *