www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

September 15, 2026 11:04 am

'অসুর' মানেই বিশ্বের সমস্ত কালো শক্তি, সমস্ত পাপ। সেই পাপকেই ধ্বংস করে বিশ্বে পুণ্য স্থাপন করেছিলেন মা দুর্গা।

‘অসুর’ মানেই বিশ্বের সমস্ত কালো শক্তি, সমস্ত পাপ। সেই পাপকেই ধ্বংস করে বিশ্বে পুণ্য স্থাপন করেছিলেন মা দুর্গা। শক্তির কাছে বারবার পরাস্ত হয়েছে আসুরিক প্রবৃত্তি। আলো আর আঁধারের এই সনাতন দ্বন্দ্বে বিজয়ের শেষ হাসিখানি বরাদ্দ থেকেছে মহামায়ার রূপেই। মর্ত্য থেকে স্বর্গ— তিমিরবিনাশী সেই মহাশক্তির আবাহনে বারে বারে ধ্বনিত হয়েছে মুক্তির বার্তা। মহিষাসুরের ঔদ্ধত্য আর দেবকুলের অসহায়তার গল্প শুধু একটি যুগের নয়, তা অনন্ত কালের। রূপ পালটেছে অসুর, রূপ পালটেছেন দেবীও। অথচ ফলশ্রুতির পরিণতি এক ও অভিন্ন।পুরাণগাথা অনুযায়ী, ব্রহ্মার বরে বলীয়ান হয়ে মহিষাসুর স্বর্গের সিংহাসন দখল করেছিল। একশো বছর ধরে চলেছিল সেই অসম যুদ্ধ। পুরুষের অবধ্য সেই মহিষাসুর যখন ত্রিলোকে তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখন দেবকুলের সম্মিলিত তেজ থেকে জন্ম নেন মহামায়া। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশী তিথিতে হিমালয়ের কোলে মহর্ষি কাত্যায়নের আশ্রমে আবির্ভূত হন দেবী।

শিবের তেজে মুখ, বিষ্ণুর তেজে বাহু আর ব্রহ্মার তেজে চরণ পেয়ে মহামায়া হয়ে ওঠেন দশভূজা। বিশ্বকর্মা দিলেন অলঙ্কার, দুগ্ধসাগরের দেবতা দিলেন রক্তাম্বর, আর হিমালয় দিলেন কেশরী বাহন। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে দেবী যাত্রা করলেন অমরাবতীর দিকে। দেবীর রণহুঙ্কার আর সিংহের গর্জনে কেঁপে উঠল মেদিনী। ছলনাকারী অসুর রূপ বদলে বারবার বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল সর্বাণীকে। কিন্তু মহাশক্তির ত্রিশূলের সামনে ব্যর্থ হয় সমস্ত আসুরি ছলাকলা। শেষ পর্যন্ত গলায় পা রেখে মহিষাসুরের বক্ষ বিদীর্ণ করেন দেবী দুর্গা।তবে কালিকা পুরাণ অনুযায়ী, দেবীর হাতে মহিষাসুরের এই বিনাশকাহিনি একবারের নয়। মহামায়া মোট তিনবার, তিনটি ভিন্ন কল্পে মহিষাসুরকে নিধন করেছিলেন।

  • প্রথম কল্প (আদি সৃষ্টি কল্প): দেবী আবির্ভূত হয়েছিলেন ‘উগ্রচণ্ডী’ রূপে। অষ্টাদশভূজা রূপ ধারণ করে তিনি প্রথমবার মহিষাসুরের তেজ চূর্ণ করেন।
  • দ্বিতীয় কল্প: দেবী রূপ নেন ‘ভদ্রকালী’র। এই কল্পে ষোড়শভুজা রূপে তিনি অসুরকুল ধূলিসাৎ করেন।
  • তৃতীয় কল্প: সর্বজনবিদিত ‘দেবী দুর্গা’ রূপে আবির্ভূত হন দশভূজা। ত্রিশূলের আঘাতে অন্তিম বিনাশ ঘটে মহিষাসুরের।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *