www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

July 19, 2024 9:25 pm
maa Kamakhya

কামাখ্যা প্রণাম মন্ত্র কামনাং দেহি মে নিত্যং কামেশ্বরী নমোস্তুতে।। কামদে কাম-রূপস্থে, সুভগে সুর-সেবিতে। করোমি দর্শনং দেব্যাঃ, সর্ব-কামার্থ-সিদ্ধয়ে।। কামাখ্যা দেবীর পুজোর সময়ে কোনও কামাখ্যা মন্ত্র জপের পূর্বে দেবীর এই প্রণাম মন্ত্র জপ করা আবশ্যক।

৫১টি শক্তি পীঠের মধ্যে একটিতে এবং ৪টি আদি শক্তি পিঠগুলির মধ্যে, কামাখ্য মন্দিরটি বিশেষ কারণ দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি এখানে পড়েছিল এবং এইভাবে দেবী কামাখ্যাকে উর্বরতার দেবী বা “রক্তক্ষরণকারী দেবী” বলা হয়।

অসমের রাজধানী গুয়াহাটির পশ্চিমাংশে অবস্থিত নীলাচল পাহাড়ে রয়েছে কামাখ্যা মন্দির। এটি হিন্দু তথা তান্ত্রিকদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থল। এটি একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির। দেবী মহামায়া এই মন্দিরে কামাখ্যারূপে বিরাজমান। কামাখ্যা তীর্থক্ষেত্র একটি শক্তিপীঠ ও তন্ত্র সাধনার ক্ষেত্র। এটি ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম। কথিত আছে, এখানে সতীর দেহত্যাগের পর বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে যোনি ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
বারাণসীর বৈদিক ঋষি বাৎস্যায়ন খ্রিস্টিয় প্রথম শতাব্দীতে নেপালের রাজার দ্বারস্থ হয়ে উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলিকে হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত ও তাদের নরবলি প্রথার গ্রহণযোগ্য বিকল্প চালু করার জন্য অনুরোধ করেন।

বাৎস্যায়নের মতে, পূর্ব হিমালয়ের গারো পাহাড়ে তারা দেবীর তান্ত্রিক পূজা প্রচলিত ছিল। সেখানে আদিবাসীরা দেবীর যোনিকে ‘কামাকি’ নামে পূজা করত। ব্রাহ্মণ্যযুগে কালিকাপুরাণে সব দেবীকেই মহাশক্তির অংশ বলা হয়েছে। সেই হিসেবে, কামাক্ষ্যাও মহাশক্তির অংশ হিসেবে পূজিত হন।

কামাখ্যা ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, কামাখ্যা মন্দিরে দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি পড়েছিল। সেকারণেই দেবী কামাখ্যাকে ঊর্বরতার দেবী বা “রক্তক্ষরণকারী দেবী” বলা হয়। এই মন্দির চত্বরে দশ মহাবিদ্যার মন্দির রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে মহাকালী, তারা, ষোড়শী বা ললিতাম্বা ত্রিপুরেসুন্দরী, ভুবনেশ্বরী বা জগদ্ধাত্রী,কামাখ্যা, শৈলকন্যা, ব্রক্ষচারিণী বা তপস্যারিণী, মঙ্গলচন্ডী, কুষ্মাণ্ডা, মহাগৌরী, চামুণ্ডা,কৌষিকী, দাক্ষায়ণী-সতী, চন্দ্রঘণ্টা, স্বন্দমাতা, কালরাত্রি, কাত্যায়ণী, সিদ্ধিদাত্রী, শাকম্ভরী, হৈমবতী, শীতলা,সংকটনাশিণী,বনচণ্ডী, দেবী দুর্গা, মহাভৈরবী, ধূমাবতী, ছিন্নমস্তা, বগলামুখী, মাতঙ্গী এবং দেবী কমলা – এই ত্রিশ দেবীর মন্দির। এর মধ্যে ত্রিপুরেসুন্দরী, মাতঙ্গী এবং কমলা প্রধান মন্দিরে পূজিত হন। অন্যান্য দেবীদের জন্য পৃথক মন্দির আছে। হিন্দুদের, বিশেষত তন্ত্রসাধকদের কাছে এই মন্দির একটি পবিত্র তীর্থ।

কামাখ্যা ধ্যানং-স্তোত্রং-প্রণাম মন্ত্র। সঙ্গে রইল কামাখ্যা কবচ

কামাখ্যা ধ্যানম্ (Kamakhya Dhyan)

====================

রবিশশিয়ুতকর্ণা কুংকুমাপীতবর্ণা

মণিকনকবিচিত্রা লোলজিহ্বা ত্রিনেত্রা ।

অভয়বরদহস্তা সাক্ষসূত্রপ্রহস্তা

প্রণতসুরনরেশা সিদ্ধকামেশ্বরী সা ॥ ১॥

অরুণকমলসংস্থা রক্তপদ্মাসনস্থা

নবতরুণশরীরা মুক্তকেশী সুহারা ।

শবহৃদি পৃথুতুঙ্গা স্বাঙ্ঘ্রিয়ুগ্মা মনোজ্ঞা

শিশুরবিসমবস্ত্রা সর্বকামেশ্বরী সা ॥ ২॥

বিপুলবিভবদাত্রী স্মেরবক্ত্রা সুকেশী

দলিতকরকদন্তা সামিচন্দ্রাবতংসা ।

মনসিজ-দৃশদিস্থা য়োনিমুদ্রালসন্তী

পবনগগনসক্তা সংশ্রুতস্থানভাগা ।

চিন্তা চৈবং দীপ্যদগ্নিপ্রকাশা

ধর্মার্থাদ্যৈঃ সাধকৈর্বাঞ্ছিতার্থা ॥ ৩॥

কামাখ্যা স্তোত্রম্ (Kamakhya Stotro)

=======================

জয় কামেশি চামুণ্ডে জয় ভূতাপহারিণি ।

জয় সর্বগতে দেবি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১॥

বিশ্বমূর্তে শুভে শুদ্ধে বিরূপাক্ষি ত্রিলোচনে ।

ভীমরূপে শিবে বিদ্যে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ২॥

মালাজয়ে জয়ে জম্ভে ভূতাক্ষি ক্ষুভিতেঽক্ষয়ে ।

মহামায়ে মহেশানি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৩॥

ভীমাক্ষি ভীষণে দেবি সর্বভূতভয়ঙ্করি ।

করালি বিকরালি চ কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৪॥

কালি করালবিক্রান্তে কামেশ্বরি হরপ্রিয়ে ।

সর্বশাস্ত্রসারভূতে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৫॥

কামরূপপ্রদীপে চ নীলকূটনিবাসিনি ।

নিশুম্ভ-শুম্ভমথনি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৬॥

কামাখ্যে কামরূপস্থে কামেশ্বরি হরিপ্রিয়ে ।

কামনাং দেহি মে নিত্যং কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৭॥

বপানাঢ্যমহাবকত্রে তথা ত্রিভুবনেশ্বরি ।

মহিষাসুরবধে দেবি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৮॥

ছাগতুষ্টে মহাভীমে কামাখ্যে সুরবন্দিতে ।

জয় কামপ্রদে তুষ্টে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৯॥

ভ্রষ্টরাজ্যো য়দা রাজা নবম্যাং নিয়তঃ শুচিঃ ।

অষ্টম্যাঞ্চ চতুর্দশ্যামুপবাসী নরোত্তমঃ ॥ ১০॥

সংবত্সরেণ লভতে রাজ্যং নিষ্কণ্টকং পুনঃ ।

য় ইদংশৃণুয়াদ্ ভক্ত্যা তব দেবি সমুদ্ভবম্ ॥ ১১॥

সর্বপাপবিনির্মুক্তঃ পরং নির্বাণমৃচ্ছতি ।

শ্রীকামরূপেশ্বরি ভাস্করপ্রভে প্রকাশিতাম্ভোজনিভায়তাননে ।

সুরারি-রক্ষঃস্তুতিপাতনোত্সুকে ত্রয়ীময়ে দেবনুতে নমামি ॥ ১২॥

সিতাসিতে রক্তপিশাঙ্গবিগ্রহে রূপাণি য়স্যাঃ প্রতিভান্তি তানি ।

বিকাররূপা চ বিকল্পিতানি শুভাশুভানামপি তাং নমামি ॥ ১৩॥

কামরূপসমুদ্ভূতে কামপীঠাবতংসকে ।

বিশ্বাধারে মহামায়ে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৪॥

অব্যক্তবিগ্রহে শান্তে সন্ততে কামরূপিণি ।

কালগম্যে পরে শান্তে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৫॥

য়া সুষুম্নান্তরালস্থা চিন্ত্যতে জ্যোতিরূপিণি ।

প্রণতোঽস্মি পরাং ধীরাং কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৬॥

দংষ্ট্রাকরালবদনে মুণ্ডমালোপশোভিতে ।

সর্বতঃ সর্বগে দেবি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৭॥

চামুণ্ডে চ মহাকালি কালি কপোলহারিণি ।

পাশহস্তে দণ্ডহস্তে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৮॥

চামুণ্ডে কুলমালাস্যে তীক্ষ্ণদংষ্ট্রামহাবলে ।

শবয়ানাস্থিতে দেবি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৯॥

কামেশ্বরী দেবী ‘মা কামাখ্যা’র প্রণাম মন্ত্র: – (Kamakhya Pranam Mantra)

==============≠================

মা কামাখ্যা নমস্তুভ্যং শৈলসুতা কামেশ্বরী।

হরপ্রিয়া নমস্তুভ্যং নমস্তুভ্যং দয়া নিধে।।

ভুবনেশ্বরী ভবতারিণী মংগল মোক্ষ প্রদায়িনী।

কামনা সিদ্ধ কামেশ্বরী শক্তিশৈল সমন্বিতা।।

অধিষ্ঠাত্রী অসমদেশে আবাহ্যামি সুসর্বদা।

সিদ্ধক্ষেত্র নীলাংচলে শক্তিপীঠ প্রতিষ্ঠিতম।।

নমোহস্তু কামাখ্যায় দেবৈ চ তেজোময়ং দিব্যম।

প্রণমামি সদা ভক্তয়া মাং কামাখ্যা পরম শুভম।।

নমোভগবতী ভগেশ্বরী যোনি মুদ্রা মহোদরী।

শরণ্যে শক্তিরুপায় দেবী কল্যাণী নমোহস্তুতে।।

” ত্বং আদ্যাদেবী কামাখ্যারুপেন জগত্মাতৃকা

তৎ চরনারবিন্দ সর্বভূতানাং স্বর্মপয়ামি॥

কামাখ্যে বরদে দেবী নীলপর্ব্বতবাসিনী

ত্বং দেবী জগতাং মাতর্যোনিমুদ্রেনমোহস্তুতে।।”

কামাখ্যাকবচ (Kamakhya Kavach)

ভগবান্ বলিলেন, হে বেতাল ও ভৈরব। এক্ষণে তোমাদের নিকট সাঙ্গ এবং সরহস্য কামাখ্যা দেবীর মাহাত্ম্য এবং কবচ বলিতেছি শ্রবণ কর। ১

কোন কালে বিষ্ণু গরুড়ের উপর আরোহণ করিয়া আকাশপথে যাইতে যাইতে নীলগিরিস্থিত কামাখ্যা দেবীকে প্রাপ্ত হইলেন। ২

সেই গিরিশ্রেষ্ঠ প্রাপ্ত হইয়াও বিষ্ণু অবজ্ঞাপূর্বক (সেখানে দর্শন না করিয়া) চল চল বলিয়া গরুড়কে যাইতে প্রেরণ করিলেন। ৩

তখন জগৎপ্রসবিনী মহামায়া কামাখ্যা দেবী গরুড়ের সহিত সেই বিষ্ণুকে আকাশপথেই স্তম্ভিত করিলেন। ৪

গরুড় যাইতে যাইতে মহামায়ার মায়ায় বিমোহিত হইয়া সহসা গমন ও প্রত্যাগমন কিছুই না করিতে সমর্থ হইয়া স্তম্ভিতভাবে দাঁড়াইয়া রহিল। ৫।

তখন গরুড়াসন নারায়ণ গরুড়কে গমনে অশক্ত দেখিয়া ক্রোধান্বিত হইয়া সেই পতঙ্গশ্রেষ্ঠ গরুড়কে নড়াইতে উদ্যত হইলেন। ৬

অনন্তর জগৎপতি বিষ্ণু দুই হস্তদ্বারা সেই পৰ্ব্বতকে জড়াইয়া ধরিয়া অল্পও নড়াইতে সক্ষম হইলেন না। ৭

এদিকে কামাখ্যা দেবী ক্রোধে অধীর হইয়া সেই পৰ্বত চালাইতে উদ্যত বিষ্ণুকে গরুড়ের সহিত সিদ্ধসূত্র দ্বারা বদ্ধ করিলেন। ৮

গ্রাহের ন্যায় উগ্ররূপ সিদ্ধসূত্র দ্বারা তাহাকে আবদ্ধ করিয়া দেবী কামাখ্যা অবলীলাক্রমে ছুড়িয়া ফেলিয়া দিলেন, তাহাতে তিনি সাগরমধ্যে ভূতলে পতিত হইলেন। ৯

সেই সাগরতল-স্থিত বিষ্ণুকে পুনর্বার নিজের মায়া দ্বারা আবদ্ধ করিয়া সাগরতলেই তাহাকে আক্রমণ করিলেন। ১০

তিনি অতিশয় যত্ন করিয়া উত্থান করিতে ইচ্ছা করিলেন এবং উঠিবার নিমিত্তও বারংবার যত্ন করিতে লাগিলেন। ১১

তখন, কামাখ্যাদেবী তাহার নড়নচড়ন ও জ্ঞানোগমের নিরোধ করিলেন। ১২

তাহাতে সেই বিষ্ণু জ্ঞান ও চেষ্টাশূন্য হইয়া গরুড়ের সহিত সেই সমুদ্রতলে অনেকক্ষণ শীর্ণের মত অবস্থান করিলেন। ১৩

এমন সময় ব্রহ্মা তাহাকে খুজিতে খুঁজিতে সাগরে মনুষ্যের মত বিশীর্ণ ভাবে অবস্থিত দেখিলেন। ১৪

লোকপিতামহ ব্রহ্মা গরুড়ের সহিত তাহাকে সেই ভাবে অবস্থিত দেখিয়া দুই হাতে করিয়া তুলিতে ইচ্ছা করিলেন। ১৫

লোকপিতামহ ব্রহ্মা নিজে দেবীর মায়ায় আবদ্ধ হইয়া তাহাকে উঠাইতে সমর্থ হইলেন না, তাহাতে তিনি বিস্ময়াবিষ্ট হইলেন। ১৬

অনন্তর শত্রু আদিদেবতা ব্ৰহ্মা এবং বিষ্ণু এই দুইজনকে খুজিতে খুঁজিতে অনেক কালের পর গভীর জলমধ্যে দেখিতে পাইলেন। ১৭

সেই শত্রু আদি দেবগণ তাহাদিগকে প্রাপ্ত হইয়া তাহাদিগকে উঠাইতে যত্ন করিলেন, কিন্তু অসমর্থ হইলেন। ১৮

তাহার পর সেই দেবগণ মায়া দ্বারা অতিশয় মোহিত হইয়া বিধাতা এবং বিষ্ণু যেখানে সেই ভাবে অবস্থান করিতেছিলেন, সেই স্থানে সেই ভাবে অবস্থান করিলেন। ১৯

অনন্তর দেবগুরু বৃহস্পতি সেই সকল দেবগণকে অন্বেষণ করিতে হিমালয়ের সান-প্রদেশে অবস্থিত মহাদেবের নিকট অবস্থিত হইয়া সেই ত্রিপুরারি দেবকে যথাবিধি স্তব এবং প্রণাম করিয়া দেবগণের বৃত্তান্ত জিজ্ঞাসা করিলেন। ২০-২১

হে জগদ্ধাম জগৎকারণের কারণ মহাদেব। আমি শক্ৰাদিদেবগণকে অন্বেষণ করিতে আপনার নিকট উপস্থিত হইলাম। ২২

ব্রহ্মা এবং বিষ্ণু ইহরা ব্ৰহ্মসদনে বা স্বর্গে? যেমন অন্য সময় তাহারা সেই সেই স্থানে লক্ষিত হইতেন। ২৩

অতএব হে দেব! সংশয়চ্ছেদন করুন, দেবতা সকলে এক্ষণে কোথায় অবস্থিত এবং কেনই বা তাহারা সেইরূপ অবস্থিত? ২৪

হে প্রভো! আমি আপনার উপদেশ অনুসারে সেই সকল দেবতার অনুসরণ করিব। আপনার যদি দয়া থাকে, তাহা হইলে সেই দেবতারা কোথায় বলিয়া দিন। ২৫

তাহার এইরূপ বাক্য শুনিয়া আমি দেবতাদিগের সেই সকল কার্যের উল্লেখ করিলাম, যে জন্য তাহারা মহামায়া কর্তৃক আবদ্ধ হইয়াছেন। ২৬

জগন্ময়ী মহাদেবী মহামায়াকে বিষ্ণু অবজ্ঞা করিয়াছেন বলিয়া তাহার মায়াদ্বারা আবদ্ধ হইয়া সাগরে অবস্থান করিতেছেন। ২৭

সেই বিষ্ণুর অন্বেষণে তৎপর ব্রহ্মা আদি দেবগণ আবার মায়াবশে দৃঢ়রূপে আবদ্ধ হইয়া তাহার নিকটে বাস করিতেছেন। ২৮

অতএব যদি তুমি আমাকে সঙ্গে না লইয়া তাহাদিগের অন্বেষণ করিতে সেই স্থানে গমন কর তাহা হইলে তুমিও মায়ার দ্বারা আবদ্ধ হইয়া থাকিবে। ২৯

আর আসিতে সমর্থ হইবে না। অতএব যেখানে নারায়ণ এবং ব্রহ্মাদি দেবগণ অবস্থান করিতেছেন, সেই স্থানে আমিও গমন করিব এবং ক্রমশ তাহাদিগকে মোচনও করিব। ৩০

এই কথা বলিয়া ভগবান মহাদেব বৃহস্পতির সহিত একত্র যেখানে সমুদয় দেবগণ অবস্থান করিতেছিলেন, সেই স্থানে গমন করিলেন। ৩১

মহাদেব সেই স্থানে গমন করিয়া বিষ্ণু এবং ব্রহ্মার সহিত শিষ্টালাপ করিয়া সকল দেবতাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন যে, তোমরা এইস্থানে অবস্থান করিতেছ। ৩২

তোমাদের নড়ন চড়নের শক্তি নাই, জড়ের মত জ্ঞানশূন্য হইয়া অবস্থান করিতেছ, এ সকল কেন হইয়াছে, এক্ষণে আমার নিকট বল। ৩৩

তখন কেশব মহাদেবের সেই বাক্য শুনিয়া ব্রহ্মাদির সম্মুখে আস্তে আস্তে মহাদেবকে বলিলেন। ৩৪

আমি গরুড়ের উপর আরোহণ করিয়া নীলগিরির শৃঙ্গের উপর দিয়া আকাশমার্গে গমন করিতেছিলাম, এমন সময় গরুড়ের গতিরোধ হওয়াতে আমি হস্ত দ্বারা মহাগিরি নীলকে ধারণ করিলাম। ৩৫

সেই স্থলে আমার অংশরূপা কামরূপিণী যোগনিদ্রা মহামায়া কামাখ্যা দেবী আমাকে ধরিয়া সাগরগর্ভে নিক্ষেপ করিলেন। ৩৬

হে অন্ধকসূদন! তাহার পর আমি বাহনের সহিত সমুদ্রের তলে পতিত হইয়া অনেককাল এই স্থানে বাস করিতেছি। ৩৭

হে মহেশ্বর! আমি কতদিন এই সাগরের জলে বাস করিতেছি, কিন্তু সেই মহামায়া অদ্যাপি আমাকে দয়া করিতেছেন না। ৩৮

আমার নিমিত্ত আগত ব্ৰহ্মাদি সমস্ত দেবগণ সহসা মহাদেবীর পাশ দ্বারা আবদ্ধ হইয়া রহিয়াছেন। ৩৯

অতএব আপনি আমাদের উপর অনুগ্রহ করিয়া, আমাদিগকে শিবালয়ে লইয়া যাউন। আমরা হিংসত্বশূন্য হইয়া, সেই দেবীকে প্রসন্ন করাইব। ৪০

হরির সেই বাক্য শ্রবণ করিয়া, আমি করুণাযুক্ত হইলাম এবং প্রীতিপূর্বক ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে বলিলাম। ৪১

অতএব তোমরা আমার মুখ হইতে কবচ শ্রবণ কর। এই কবচ পাঠ করিলে, পরমেশ্বরীর সাক্ষাৎ দর্শন লাভ হইবে। আমার সঙ্গে থাকায় বৃহস্পতি তোমাদের মত বদ্ধ হন নাই। ৪২-৪৩

এই কামাখ্যা-কবচের ঋষি বৃহস্পতি, কামেশ্বরী দেবতা এবং ছন্দ অনুষ্টুপ। এই কামাখ্যা-কবচের সকল সিদ্ধির নিমিত্ত প্রয়োগ হইয়া থাকে। হে দেবগণ! তোমরা ইহা শ্রবণ কর। ৪৪-৪৫

কামেশ্বরীদেবী আমার মস্তক, কামাখ্যা চক্ষুদ্বয়, শারদা কর্ণদ্বয়, ত্রিপুরা বদন, মহামায়া কণ্ঠে এবং কামেশ্বরী হৃদয়ে রক্ষা করুন। ৪৬

কামাখ্যা আমার জঠরে, শারদা নাভিদেশে, ত্রিপুরা পার্শ্বদ্বয়ে এবং মহামায়া লিঙ্গে রক্ষা করুন। ৪৭

অপানদেশে কামেশ্বরী, ঊরুদ্বয়ে কামাখ্যা, জানুদ্বয়ে শারদা এবং জঙ্ঘাদ্বয়ে ত্রিপুরা রক্ষা করুন। ৪৮

কামদায়িনী মহামায়া নিত্যপাদযুগলে রক্ষা করুন এবং দীর্ঘিকা কোটী শ্বরী নাভিদেশে রক্ষা করুন। ৪৯

ভৈরবী আমার দন্তসমূহে এবং মাতঙ্গী স্কন্ধদ্বয়ে রক্ষা করুন। বাহুদ্বয়ে ললিতা এবং করতলে বনবাসিনী রক্ষা করুন। ৫০

বিন্ধ্যবাসিনী অঙ্গুলী-নিচয়ে, শ্রীকামা নখকোটিতে রক্ষা করুন এবং গুপ্তকামনা সমুদয় রোমকূপে রক্ষা করুন। ৫১

পাদাঙ্গুলী এবং পার্ষ্ণিভাগে আমাকে ভুবনেশ্বরী রক্ষা করুন। জিহ্বায় সেতু এবং কণ্ঠাভ্যন্তরে ক রক্ষা করুক। ৫২

ন বক্ষের অন্তরে এবং ট জঠরান্তরে রক্ষা করুক। অর্ধচন্দ্র বস্তিদেশে এবং বিন্দু উহার ভিতর রক্ষা করুক। ৫৩

ক আমার কেশে এবং সৰ্ব্বদা আমার অস্থিতে রক্ষা করুক। মকার সমুদয় নাড়ীতে এবং ইকার সমুদয় সন্ধিপ্রদেশে রক্ষা করুক। ৫৪

অর্ধচন্দ্র আমার স্নায়ুতে এবং বিন্দু মজ্জাতে রক্ষা করুক। ৫৫

পূৰ্বদিক্‌, অগ্নিকোণ, দক্ষিণদিক্‌, নৈর্ঋতকোণ, পশ্চিমদিক্‌ বায়ুকোণ, উত্তর-দিক্‌ এবং ঈশানকোণে বৈষ্ণবী মন্ত্রান্তর্গত অকারাদি অষ্ট অক্ষর সর্বদা নিত্য বৃদ্ধির নিমিত্ত রক্ষা করুক এবং স্থিতি করুক। ৫৬

শারদা-মন্ত্ৰান্তৰ্গত নয়টী অক্ষর আমার ঊর্ধ্ব অধঃ এবং নেত্ৰদ্বয় সর্বদা রক্ষা করুক। ৫৭

নয়টী স্বর সর্বদা আমার নাসিকাদিতে রক্ষা করুক এবং ত্রিপুরার অক্ষয়ত্রয় আমাকে বাত, পিত্ত এবং কফ হইতে রক্ষা করুক। ৫৮

উহারা ভূত ও পিশাচগণ হইতে নিত্য আমাকে রক্ষা করুক। দিবাকর গুলফদেশে এবং রাক্ষসগণ হইতে আমাকে রক্ষা করুন। ৫৯

মহামায়া জগন্ময়ী কামেশ্বরী দেবীকে নমস্কার করি। এই কাম্যা দেবীই প্রকৃতিরূপে সমুদয় জগৎ বিস্তার করিতেছেন। ৬০

যাহার হস্তে অক্ষমালা, অভয়, বর এবং সিদ্ধসূত্র, যিনি শ্বেতবর্ণ প্রেতের উপর অবস্থিত মণি-সুবর্ণ-শোভিত, কুঙ্কুমতুল্য ঈষৎ পীতবর্ণা, জ্ঞান ও ধ্যানে প্রতিষ্ঠিতা, বিনয়বতী আদি সৃষ্টিকালে ব্ৰহ্মানামে প্রসিদ্ধ এবং অর্ধচন্দ্র বিন্দু অন্ত মন্ত্র যাঁহার অতিশয় প্রিয়, সেই রতিক্রীড়ায় বর্তমান কামাখ্যা দেবীকে নমস্কার করি। ৬১

যাহার মধ্যদেশে সর্বদা হারাবলী বিগলিত হইয়াছে, যিনি লোকের লীলা-স্বরূপ সকলগুণশালিনী, ব্যক্তরূপা বিনম্র, বিদ্যারূপা, বিদ্যাহেতু শান্ত মূর্তি, যমের দমনকারিণী, মঙ্গলকর্ত্রী এবং সুন্দরাননা, আর যাঁহার হস্তে পবিত্র প্রণব অবস্থিত, সেই কামেশ্বরী দেবী আমাদিগকে রক্ষা করুন। ৬২

হে হরে! এই কবচ শরীরে থাকিয়া যমভয় এবং দুর্দৈবের শান্তি করে, এই কবচ গ্রহণ করিয়া অমরগণের সহিত মুক্তি লাভের নিমিত্ত চেষ্টা করে। ৬৩

যে পণ্ডিত কামাখ্যার এই কবচ একবারমাত্র পাঠ করে, সে অনন্তকালের নিমিত্ত মহাদেবীর শরীরে প্রবেশ করে। ৬৪

তাহার আধি বা ব্যাধি অথবা রাক্ষসগণ হইতে ভয় হয় না। অগ্নি, জল, রিপু এবং রাজা হইতে ভয় হয় না। ৬৫

সে দীর্ঘায়ুঃ, বহুভোগী এবং পুত্র-পৌত্রযুক্ত হইয়া শতবার জন্মগ্রহণ করিয়া অন্তে দেবীর মন্দিরে আনন্দ উপভোগ করে। ৬৬

সংগ্রামে বা অন্যত্র যে কোনরূপেই বদ্ধ হউক, এই কবচের স্মরণ করিলে তৎক্ষণাৎ মুক্তি লাভ হইবে। ৬৭

ঈশ্বর বলিলেন, তখন হরি, ব্রহ্মা, ইন্দ্র এবং অপর দেবগণ এই কবচ শ্রবণ করিয়া নিজ নিজ দেহে পৃথক পৃথক্ কবচ ধারণ করিলেন। ৬৮

তাহারা কবচ ধারণ করিবামাত্র মহামায়ার প্রভাবে সাগরগর্ভ হইতে উত্থিত হইয়া পৃথিবী প্রাপ্ত হইলেন। ৬৯

অনন্তর সেই ব্রহ্মা বিষ্ণু আদি দেবগণ পৃথিবীতল প্রাপ্ত হইয়াই পৰ্বতে কামাখ্যা দেবীকে দেখিতে গমন করিলেন। ৭০

সেই স্থানে কেশরিস্থিত জগন্ময়ী কামাখ্যা দেবীকে দেখিয়া এবং তাহার প্রভাব অবগত হইয়া এই কথা বলিলেন। ৭১

তুমি প্রকৃতি, তুমি পৃথিবী ও জল, তুমি জগতের মাতা এবং তুমি জগন্ময়ী। তুমি জগতের কর্ত্রী, তুমি বিদ্যা, তুমি মুক্তিদায়িনী, তুমি পরাপরস্বরূপা এবং স্থল, সূক্ষ্ম ও লঘুরূপিণী। ৭২-৭৩

হে মহাদেবি! প্রসন্ন হও, হে চতুৰ্বর্গ প্রদায়িনি পাপরহিতে! তুমি প্রসন্ন হইলে সকল দেবগণ প্রসন্ন হন। ৭৪

মহাত্মা কেশবের এই বাক্য শ্রবণ করিয়া কামাখ্যাদেবী প্রত্যক্ষগোচর হইয়া হরিকে সম্বোধন করিয়া এই কথা বলিলেন। ৭৫

হে কেশব! ব্রহ্মা এবং অপর দেবগণের সহিত আমার যোনিস্থিত সলিলে স্নান ও সেই জল পান কর। ৭৬

তাহাতে তুমি অহঙ্কারশূন্য হইয়া এবং বিশেষ বাৰ্য্যলাভ করিয়া গরুড়ারোহণ পূর্বক ব্রহ্মার সহিত স্বর্গে গমন করিবে। ৭৭

মহাদেবী এই কথা বলিলে কেশব ব্রহ্মার সহিত যোনিমণ্ডলস্থিত জলে স্নান ও তাহা পান করিলেন। ৬৮

অনন্তর কেশব ও দেবগণ স্নান করিয়া দেবীর অনুমতিক্রমে প্রহৃষ্টান্তঃকরণে স্বর্গে গমন করিলেন। ৭১

ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং দেবগণ গমন করিতে করিতে আকাশস্থিতা কামাখ্যা দেবীকে দর্শন করিলেন। ৮০

নীলকূট সহস্র যোনিদ্বারা সঙ্গত হইয়া উৰ্দ্ধ এবং অধোদেশ ব্যাপিয়া অবস্থিত দেখিলেন। ৮১

তখন সেই দেবতাগণ তৎক্ষণাৎ তাহার প্রত্যেক পৰ্বতে উঠিয়া যোনিমণ্ডলের সলিলে স্নান ও তাহা পান করিয়া অতুল প্রীতিলাভ করিলেন। ৮২

তাহার পর নিরাপদে বিস্ময়ান্তঃকরণে কামাখ্যার যোনিমণ্ডলের স্তব করিতে করিতে গমন করিলেন। ৮৩।

অনন্তর দেবগুরু বৃহস্পতি আমাকে স্তব করিয়া এবং আমাকর্তৃক অনুজ্ঞাত হইয়া হর্ষোৎফুল্ললোচনে স্বর্গে গমন করিলেন। ৮৪

হে ভৈরব! সেই কামাখ্যা দেবীর মাহাত্ম্য ঈদৃশ, এই তাঁহার কবচও কথিত হইল, এক্ষণে এই কবচ আপনার ইচ্ছানুসারে ধারণ করিয়া সুখী হও। ৮৫

কামাখ্যা দেবীর মাহাত্ম্যের বিষয় তোমাকে আর অধিক কি বলিব, যাহার যোনিশিলার সম্পর্কে লৌহ স্বর্ণত্ব প্রাপ্ত হয়। ৮৬

একবার মাত্র এই কামাখ্যার যোনিমণ্ডলে স্নান ও তাহার জল পান করিয়া মনুষ্য আর জন্মপ্রাপ্ত হয় না, একবারে নির্বাণপ্রাপ্ত হয়। ৮৭

দ্বিসপ্ততিতম অধ্যায় সমাপ্ত। ৭২

শক্তিপীঠের গল্প

​শক্তিপীঠের গল্প

হিন্দু পুরাণ অনুসারে, রাজা দক্ষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মহাদেবকে বিয়ে করেছিলেন তাঁর কন্যা সতী। মহাদেবের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দক্ষ রাজা বৃহস্পতি নামে এক যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। যজ্ঞে সতী কিংবা মহাদেব কাউকেই আমন্ত্রণ জানাননি দক্ষ। মহাদেবের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সতী বাবার আয়োজিত যজ্ঞানুষ্ঠানে যান। সেখানে দক্ষ মহাদেবকে অপমান করেন। স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী দেহত্যাগ করেন। শোকাহত মহাদেব দক্ষর যজ্ঞ ভণ্ডুল করেন এবং দেবী সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। তাঁর তাণ্ডব বন্ধ করতে অন্যান্য দেবতাদের অনুরোধে বিষ্ণুদেব তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর মৃতদেহ ছেদন করেন। এতে সতীর দেহখণ্ডসমূহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে এবং পবিত্র পীঠস্থান শক্তিপীঠ বা সতীপীঠ নামে পরিচিতি। কামাখ্যা সেই শক্তিপীঠের অন্যতম।

​অম্বুবাচীর মেলা

​অম্বুবাচীর মেলা

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত অম্বুবাচী মেলার আয়োজন করা হয় অসমের কামাখ্যা মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী আষাঢ় মাসে মৃগ শিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে পৃথিবী বা ধরিত্রী মা ঋতুময়ী হয়। এই সময়টিতে অম্বুবাচী পালন করা হয়। আর এই উপলক্ষে বিশাল এক মেলার আয়োজন করা হয় সেখানে। অম্বুবাচীর দিন থেকে মোট তিনদিন দেবী কামাক্ষ্যার মন্দির বন্ধ থাকে। সেই তিনদিন কোনও মাঙ্গলিক কাজ করা যায় না। দেবী দর্শনও নিষিদ্ধ থাকে। চতুর্থ দিন দেবীর স্নান এবং পূজা সম্পূর্ণ হওয়ার পর মন্দিরে দেবী মূর্তি দর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়।

সেই উপলক্ষে সেখানে উপস্থিত হন লক্ষ লক্ষ ভক্ত। অবাক করা এই ঘটনার সাক্ষী হতে ভিড় জমান দেশি বিদেশি পর্যটকরা। কামাক্ষ্যা মন্দিরের চারদিকে চলে নাম সংকীর্তন। অম্বুবাচীর শেষ দিন ভক্তদের রক্তবস্ত্র উপহার দেওয়া হয়। দেবী পীঠের সেই রক্তবস্ত্র ধারণ করলে মনোকামনা পূর্ণ হয় বলে বিশ্বাস করেন ভক্তরা। অম্বুবাচীর মেলা আন্তর্জাতিক স্তরে বিখ্যাত। মেলাকে কেন্দ্র করে যে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয় সেটিও দেখবার মতো।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *