www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

July 15, 2024 10:04 pm

স্নানযাত্রার প্রথা জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে স্নানযাত্রা হয় বলে একে স্নান পূর্ণিমা বা দেবস্নান পূর্ণিমা বলা হয়ে থাকে। মহাস্নানের আগে অবধি রত্নবেদীতেই অবস্থান করেন জগন্নাথ। প্রথমে জগন্নাথ, তারপর বলভদ্র, শেষে সুভদ্রাকে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে পুজো করেন মন্দিরের সেবায়েতরা। তারপর তিন ভাই বোনকে নিয়ে যাওয়া হয় স্নানবেদীতে।

কলি যুগের জীবন্ত দেব হলেন জগন্স্ত্রনাথ দেব। শাত্র মতে, জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্বমভু মনুর ‌যজ্ঞের প্রভাবে জগন্নাথ দেবের আবির্ভূত ঘটেছিল। সেই কারণে এই তিথিকে জগন্নাথের জন্মদিন হিসেবে পালন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বয়ং মনুই। জগন্নাথ দেবের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই বিশেষ তিথিতে তাই স্নান উৎসব পালিত হয়ে থাকে। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথযাত্রার ১৫ দিন আগে স্নানযাত্রা পালন করা হয়। এই বছর স্নানযাত্রা পড়েছে আজ ২২ জুন ২০২৪ শনিবার। এদিন থেকেই আবার শুরু অম্বুবাচী।

২২ জুন। এদিন জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রা, তিন ভাইবোনেরই সাড়ম্বরে স্নানযাত্রা হবে। সকাল ৭টা ৩২ মিনিট তিথিতে পড়ছে পূর্ণিমা। ২২ জুন সকাল ৬টা ২২ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে তিথি। যেহেতু ২২ জুন সূর্যোদয় পাওয়া যাচ্ছে, তাই স্নান যাত্রা পালন হবে শনিবারই।

রথযাত্রার (Rath Yatra) আগে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হল স্নানযাত্রা। আর এই দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় রথের কাউন্ট ডাউন। ১০৮ ঘড়া জলে স্নান করে গরমের পর শরীর শীতল করেন জগন্নাথ – বলরাম – সুভদ্রা (Jagannath)। আর তারপরই প্রবল জ্বরে কাবু হন মহাপ্রভু জগন্নাথ। হিন্দু পঞ্জিকা (HIndu Panchang) মতে জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা। জগন্নাথের ভক্তদের কাছে এটি একটি বিশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ উৎসব। মনে করা হয় এই দিনটিই জগন্নাথের জন্মতিথি। পুরীতে স্নানযাত্রা (Puri) উপলক্ষ্যে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে কলসি কলসি জল ঢেলে স্নান করানো হয়ে থাকে। জগন্নাথ দেবের (Lord Jagannath) স্নানযাত্রার দৃশ্য চাক্ষুস করতে এই সময় পুরীতে বহু মানুষ ভিড় করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দর্শন করা হলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি মেলে। স্নানযাত্রা উপলক্ষে এই সময় অসংখ্য ভক্ত পুরীর মন্দিরে দর্শনে যান। স্কন্দ পুরাণ অনুসারে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার পরেই প্রথম বার রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে ভক্তরা জগন্নাথ রথযাত্রার জন্য পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরে পৌঁছান। এই মন্দিরটিকে ভগবান জগন্নাথ অর্থাৎ শ্রী কৃষ্ণকে উৎসর্গ করা হয়। এই মন্দিরে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। শ্রী জগন্নাথ মন্দির হিন্দুদের চারটি ধামের মধ্যে একটি। প্রতি ১২ বছরে এই মূর্তিগুলি পরিবর্তন করার একটি ঐতিহ্য রয়েছে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক এই ঐতিহ্যের অর্থ কী এবং এ বার কবে থেকে শুরু হবে জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা।

প্রতি ১২ বছর অন্তর জগন্নাথ মন্দিরের (Jagannath Temple) মূর্তি পরিবর্তন করা হয়। এই ঐতিহ্যকে নবকলেবর বলা হয়। নবকলেবর মানে নতুন শরীর। এর আওতায় জগন্নাথ মন্দিরে স্থাপিত ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা ও সুদর্শনের পুরনো মূর্তিগুলিকে নতুন মূর্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। এসব প্রতিমা কাঠের তৈরি তাই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে প্রতি ১২ বছর অন্তর এই মূর্তিগুলি পরিবর্তন করা হয়।

প্রতিমা পরিবর্তনের সময় পুরো শহরের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয় এবং সর্বত্র অন্ধকার বজায় থাকে। প্রতিমা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া গোপন রাখা হয়, সে কারণেই এমনটি করা হয়। প্রতিমা পরিবর্তনের সময় একজন প্রধান পুরোহিত উপস্থিত থাকেন। পুরোহিতের চোখও বাঁধা থাকে। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় দিনে শ্রী জগন্নাথ রথযাত্রা বের হয়। এই বছর জগন্নাথ রথযাত্রা ২০২৪ সালের ৭ জুলাই শুরু হবে এবং ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই শেষ হবে। ভগবান শ্রী কৃষ্ণ, বলরাম এবং দেবী সুভদ্রার তিনটি ভিন্ন রথ তৈরি করা হয়েছে বিশাল জগন্নাথ যাত্রার জন্য। যার মধ্যে বলরাম এর রথ সামনের দিকে, বোন সুভদ্রার রথ মাঝখানে এবং ভগবান জগন্নাথ এর রথ পিছনে চলে। ভগবান তার মাসির বাড়ি গুন্ডিচা মন্দিরে যান।

স্নানযাত্রার প্রথা

প্রতি বছর দেবস্নান পূর্ণিমায় এই রীতি পালিত হয়। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে স্নানযাত্রা (Snan Jatra) হয় বলে একে স্নান পূর্ণিমা বা দেবস্নান (Snan Yatra) পূর্ণিমা বলা হয়ে থাকে। মহাস্নানের আগে অবধি রত্নবেদীতেই অবস্থান করেন জগন্নাথ। প্রথমে জগন্নাথ, তারপর বলভদ্র, শেষে সুভদ্রাকে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে পুজো করেন মন্দিরের সেবায়েতরা। তারপর তিন ভাই বোনকে নিয়ে যাওয়া হয় স্নানবেদীতে। সুন্দর পট্টবস্ত্র দিয়ে ঢেকে জগন্নাথদেব সহ বলরাম ও সুভদ্রাকে স্নানমঞ্চে নিয়ে আসা হয়। সেই সময় চামর ও তালপাতা দিয়ে তিন দেবতাকে বাতাস করা হয়। সেখানে মঙ্গল আরতি ও সূর্য আরাধনার পর তিনজনকে মহাস্নানের জন্য প্রস্তুত করানো হয়। মন্দিরের দক্ষিণ দিকের দরজায় রয়েছে কুয়ো। সেই কুয়ো থেকে ১০৮ ঘটি জল তুলে সেই জলে স্নান করেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে।

জগন্নাথের জ্বর

স্নানের পর জগন্নাথ ও বলরামের হাতিবেশ বা গণেশবেশ পরানো হয়ে থাকে। কথিত আছে, স্বয়ং জগন্নাথদেব মহারাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে মহাস্নানের পর তাঁর অঙ্গরাগবিহীন রূপ যেন কেউ না দেখেন। তাই স্নানযাত্রার পর থেকে ১৫ দিন পুরীর মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য বন্ধ থাকে। আবার বলা হয়ে থাকে যে ১০৮ কলসি জলে স্নান করে এরপর জ্বর আসে তিন ভাই বোনেরই। সর্দি জ্বর হওয়ার কারণে তাঁদের এই সময় মন্দিরের অন্য একটি ঘরে আলাদা রাখা হয়। রাজ বৈদ্যের দেওয়া ওষুধ ও পথ্য খেয়ে ১৫ দিন পরে আবার বাইরে আসেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। এরপর যখন নবমূর্তিতে জগন্নাথদেব নানা বেশভূষায় সুসজ্জিত হয়ে দর্শন দেন তখন সেই উৎসবকে বলা হয় নেত্রোৎসব বা নবযৌবন উৎসব।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *