প্রতি বছর ধর্মপ্রাণ লক্ষ লক্ষ মানুষ কেদার দর্শনে যান। এবারও কেদার দর্শন শুরু হয়েছে। হিমালয়ের ১৬ কিমি দীর্ঘ এই দুর্গম পথ কেবল ভক্তি নয়, পরীক্ষাও নেয় ধৈর্য ও শারীরিক সক্ষমতার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১,৭৫৫ ফুট উচ্চতায় এই যাত্রা সফল করতে প্রস্তুতির অভাব থাকলে পড়তে পারেন চরম বিপদে। এই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে –
- ট্রেক শুরু করার অন্তত এক মাস আগে থেকে নিয়মিত হাঁটা এবং প্রাণায়াম বা ব্রিদিং এক্সারসাইজ শুরু করুন। কেদারনাথের উচ্চতায় অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকে, তাই ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
- যাত্রা শুরুর আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তাদের জন্য এই উচ্চতায় যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রয়োজনে ফিটনেস সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখুন।
- কেদারনাথের আবহাওয়া অনিশ্চিত। তাই সাথে অবশ্যই থার্মাল ইনার, ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেট এবং রেইনকোট রাখুন। ভারী জিন্সের বদলে হালকা ও আরামদায়ক ট্র্যাকিং প্যান্ট পরা ভালো।
- সাধারণ চটি বা স্নিকার্স পরে ১৬-১৮ কিমি ট্রেক করা কঠিন। ভালো গ্রিপ যুক্ত এবং ওয়াটারপ্রুফ ট্র্যাকিং জুতো ব্যবহার করুন, যা পাহাড়ি পিচ্ছিল পথে আপনাকে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করবে।
- ব্যাগে অতিরিক্ত বোঝা না বাড়িয়ে কেবল প্রয়োজনীয় জিনিস রাখুন। সাথে ব্যক্তিগত ফার্স্ট এইড বক্স, পেনকিলার, ব্যান্ডেজ এবং উচ্চতাজনিত অসুস্থতা (Altitude Sickness) মোকাবিলার ওষুধ অবশ্যই রাখুন।
- ট্রেকিংয়ের সময় প্রচুর জল পান করুন। সাথে গ্লুকোজ, এনার্জি বার, চকোলেট বা শুকনো ফল রাখতে পারেন, যা তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাবে। তবে পাহাড়ে ওঠার সময় ভারী খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
- পাহাড়ে দুপুর ২টোর পর আবহাওয়া দ্রুত খারাপ হতে থাকে। তাই চেষ্টা করুন ভোরবেলা (রাত ৩টে বা ৪টে) গৌরিকুণ্ড থেকে ট্রেক শুরু করতে, যাতে সন্ধ্যার আগে কেদারনাথে পৌঁছানো যায়।
