গ্রীষ্মকালে বাঙালির অন্যতম একটি পারিবারিক তথা ধৰ্মীয় অনুষ্ঠান হল – জামাইষষ্ঠী। বাঙালি সংস্কৃতির এ যেন এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ! জামাইয়ের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় শাশুড়িমায়েদের এই ব্রতপালন যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদ্দুর। আর আম-কাঁঠালের গন্ধে ম ম করা দুপুর। জামাই আদরের সেই চিরচেনা ছবি এবারও ফিরছে বঙ্গে। জামাইষষ্ঠী কবে? তিথি শুরু হচ্ছে কখন? এই উৎসবের সামাজিক প্রেক্ষাপটই বা কী? পঞ্জিকা মতে, চলতি বছর জামাইষষ্ঠী পালিত হবে আগামী ২০ জুন (৫ আষাঢ়), শনিবার। মূলত জ্যৈষ্ঠ মাসে এই উৎসব পালিত হলেও এবার তিথি অনুযায়ী দিনটি পড়েছে আষাঢ়ের শুরুতে। ষষ্ঠী তিথি শুরু: ১৯ জুন, রাত ১০টা ১৬ মিনিটে। ষষ্ঠী তিথি সমাপ্ত: ২০ জুন, রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে।
জামাইষষ্ঠীর সকালে শাশুড়িরা উপবাস থেকে মা ষষ্ঠীর পুজো দেন। নিয়ম মেনে চলে জামাইকে ধান, ১০৮টি দুর্বা, তালের পাখা ও বাঁশের করুল দিয়ে আশীর্বাদ করার পালা। এই উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হল মরশুমি ফল। কাঁঠাল, আম, লিচু আর করমচার ডালা সাজিয়ে চলে জামাই বরণ। নতুন বস্ত্র আর উপহার আদান-প্রদানে শ্বশুরবাড়িতে হুল্লোড় পড়ে যায়। মধ্যাহ্নভোজের পাতে থাকে ইলিশ, খাসির মাংস। এই উৎসবের নেপথ্যে রয়েছে চমৎকার এক সামাজিক প্রেক্ষাপট। কথিত আছে, প্রাচীনকালে কন্যা সন্তান পুত্রবতী না হওয়া পর্যন্ত বাবা-মা মেয়ের বাড়ি যেতেন না। সেই সংস্কার মেনে জ্যৈষ্ঠের এই বিশেষ তিথিতে জামাইকে নিমন্ত্রণ করা হত, যাতে মেয়ের মুখ দর্শন করা যায়। মূলত কুল রক্ষা এবং সন্তানের মঙ্গলে দেবী ষষ্ঠীর আরাধনাই এই ব্রতের মূল লক্ষ্য।
