www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

October 30, 2026 5:54 pm

ঈশ্বর আরাধনায় পুষ্পার্ঘ্য বা পুষ্পমাল্য অর্পণ হিন্দু সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র অঙ্গ।

ঈশ্বর আরাধনায় পুষ্পার্ঘ্য বা পুষ্পমাল্য অর্পণ হিন্দু সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র অঙ্গ। দেবী বা দেবতার বিগ্রহে টাটকা ও সুগন্ধি ফুলের মালা পরিয়ে ভক্তি নিবেদন করার রীতি যুগে যুগে চলে আসছে। তবে আধুনিক ব্যস্ততার যুগে বাজার থেকে কেনা রেডিমেড মালার ব্যবহার বহুগুণ বাড়লেও, বহু ভক্তই মনে প্রশ্ন জাগান— নিজের হাতে পরম ভক্তিতে গাঁথা ফুলের মালা কি ভগবানকে পরানো উচিত নাকি বারণ? শাস্ত্রজ্ঞ ও পণ্ডিতদের মতে, বাজার থেকে কেনা মালার চেয়ে নিজের হাতে নিষ্ঠা ও ভালোবাসা দিয়ে প্রস্তুত করা ফুলের মালা ঈশ্বরচরণে অর্পণ করাই সবচেয়ে শুভ এবং শাস্ত্রসম্মত। পুরাণ ও শাস্ত্রগ্রন্থে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ঈশ্বর কোনও পার্থিব বস্তুর বাহ্যিক মূল্যে সন্তুষ্ট হন না; তিনি কেবল ভক্তের একনিষ্ঠ ‘ভাব’ বা ভক্তি গ্রহণ করেন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন—

“পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং যো মে ভক্ত্যা প্রযচ্ছতি…” যার যে ব্যক্তি ভক্তি সহকারে আমাকে একটি পাতা, একটি ফুল, একটি ফল বা সামান্য জলও অর্পণ করে, আমি তা প্রীতিভরে গ্রহণ করি।সুতরাং, বাজার থেকে টাকা দিয়ে কিনে আনা প্রথাগত মালার চেয়ে নিজের হাতে সময় ও ধৈর্য দিয়ে গাঁথা মালায় অনুভূতির স্পর্শ অনেক বেশি গভীর হয়। যখন কোনও ভক্ত নিজের হাতে ভগবানের জন্য মালা গাঁথেন, তখন তাঁর মন অন্য সমস্ত জাগতিক চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে কেবল ঈশ্বরের ধ্যানে মগ্ন থাকে। এই প্রক্রিয়াটিকে শাস্ত্রে একপ্রকার ‘জপ’ বা ‘ধ্যান’ বলেই গণ্য করা হয়েছে।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *