শুরু হয়ে গেছে অমরনাথ যাত্রা। ঢল নেমেছে ভক্তপ্রাণ মানুষের। চলতি বছরে ৩ জুলাই (সম্ভাব্য) নির্ধারণ হয়েছে এ যাত্রার জন্য। প্রথমে জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প, ও তারপর সেখান থেকে অমরনাথের উদ্দেশে শুরু হয় পথচলা। আর এই পথে প্রত্যেক ভক্তকেই থামতে হয় যাঁর সামনে, তিনি বাবা বরফানি (Baba Barfani)। যাত্রা শুরু হলেই নাকি বিলীন হয়ে যান বাবা বরফানি। ফিরে আসেন আবার বহু মাস পর। কেমন করে তা সম্ভব? আসলে বাবা বরফানির কোনও আলাদা মন্দির নেই, মূর্তিও নেই। তাঁকে দেখতে হলে থামতে হয় পবিত্র অমরনাথ গুহায়। এই গুহার ভিতর থাকা এক প্রাকৃতিক বরফখণ্ডকেই শিবজ্ঞানে পূজা করেন সাধারণ মানুষ। শিবভক্তদের বিশ্বাস, এই বরফের শিবলিঙ্গে স্বয়ং দেবাদিদেব বিরাজ করেন। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে গুহার ছাদ থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে প্রবল ঠান্ডায় জমে একটি বরফের শিবলিঙ্গ তৈরি হয়। এতে কোনও মানুষের হস্তক্ষেপ নেই, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবেই তা গড়ে ওঠে।
অমরনাথ যাত্রার মূল উদ্দেশ্যই হল এই বাবা বরফানির দর্শন করা। প্রতি বছর ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, এমনকী বিদেশ থেকেও লক্ষ লক্ষ ভক্ত কঠিন পাহাড়ি পথ পেরিয়ে অমরনাথ গুহায় পৌঁছন। কেউ পাহেলগাঁও রুট, আবার কেউ বালতাল রুট ধরে এই তীর্থযাত্রা সম্পূর্ণ করেন। বহু মানুষের কাছে এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় যাত্রা নয়, বরং বিশ্বাস, ভক্তি ও মানসিক শক্তির পরীক্ষা। দেখা গিয়েছে, প্রতি বছরই অমরনাথ যাত্রার কয়েকদিনের মধ্যেই গলতে শুরু করেন বাবা বরফানি। আসলে শিবলিঙ্গের আকার ও স্থায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর। গুহার অভ্যন্তরের তাপমাত্রা, বাইরের আবহাওয়া, তুষারপাতের পরিমাণ, বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্রতার মতো একাধিক প্রাকৃতিক কারণ বরফের শিবলিঙ্গের বৃদ্ধি ও ক্ষয়কে প্রভাবিত করে।
