www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

July 3, 2026 11:12 am

জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় ১০৮ কলসি সুবাসিত জলে মহাস্নান সারেন তিন ভাই-বোন।

জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় ১০৮ কলসি সুবাসিত জলে মহাস্নান সারেন তিন ভাই-বোন। এরপরই নিয়মমাফিক ‘ধূম জ্বরে’ আক্রান্ত হন তাঁরা। টানা ১৫ দিন লোকচক্ষুর আড়ালে চলে রাজবৈদ্যের পাঁচন দিয়ে চিকিৎসা। এই নিভৃত পর্ব সুস্থ হয়ে মাসির বাড়ি যাত্রার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। জগন্নাথ দেবের ৪৫ ফুট উঁচু রথের নাম ‘নন্দীঘোষ’, যা স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রের দেওয়া। এই প্রধান রথে থাকে ১৬টি বিশালাকার চাকা। এছাড়া অন্য দুটি রথের নাম তালধ্বজ ও দর্পদলন বা পদ্মধ্বজ। প্রাচীন শাস্ত্রীয় বিধি মেনেই যুগ যুগ ধরে এই নামকরণ চলে আসছে। তিনটি বিশালাকার রথ তৈরিতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৮৩২টি কাঠের টুকরো প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৮৮৪টি গাছের ১২ ফুটের কাণ্ড ব্যবহার করা হয়। ওড়িশার অরণ্য থেকে নির্দিষ্ট মাপের এই বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ করা রথযাত্রার অন্যতম প্রধান কাজ।

যে কোনও কাঠ দিয়ে রথ তৈরি শাস্ত্রসম্মত নয়। রথের জন্য ফসি, ধৌসা, হাঁসি ও নিম গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়। বন দপ্তরের অনুমতি মেলার পর পুরীর প্রধান পুরোহিত স্বয়ং জঙ্গলে যান। সেখানে নির্দিষ্ট গাছগুলি চিহ্নিত করে শাস্ত্রীয় মতে ভক্তিভরে পুজো করা হয়।
রথ নির্মাণের জন্য কাঠ কাটার সূচনায় এক অদ্ভুত শাস্ত্রীয় নিয়ম মানা হয়। সাধারণ কুঠার নয়, পুরীর রাজার ঐতিহ্যবাহী সোনার জল করা কুঠার ব্যবহৃত হয়। অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে বংশানুক্রমিক প্রধান ছুতোর এই কুঠার মহাপ্রভুর চরণে স্পর্শ করিয়ে প্রথম কাঠ কাটার কাজ শুরু করেন। আধুনিক বিজ্ঞানকে চমকে দিয়ে এই বিশাল রথ তৈরিতে একটিও লোহার পেরেক বা স্ক্রু ব্যবহৃত হয় না। সম্পূর্ণ রথটি দাঁড়িয়ে থাকে প্রাচীন ভারতীয় কাঠ-খোদাই প্রযুক্তির ওপর। নিখুঁত কাঠের খিলান জোড়া দিয়েই অবিশ্বাস্য শক্তিতে তৈরি হয় দুর্ভেদ্য এই তিনটি রথের কাঠামো।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *