সামনেই জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। সবে শেষ হলো স্নানযাত্রা। রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে ভক্তিরসে আপ্লুত হয় আপামর মানবমন। শ্রীক্ষেত্র পুরী থেকে শুরু করে বঙ্গদেশের প্রতিটি কোণ, সর্বত্রই এখন জগন্নাথ বন্দনার আবহ। সম্প্রতি সারা হয়েছে স্নানযাত্রা। আগামী ১৬ জুলাই রথযাত্রা উৎসব। সনাতন ধর্মে জগন্নাথদেব কেবল এক দৈব সত্তা নন, তিনি জীবন ও জগতের পরম আশ্রয়। শ্রী শ্রী জগন্নাথদেব মূলত অর্থ, সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তির প্রতীক। রথযাত্রার দিন ভক্তিভরে তাঁর আরাধনা করলে মানবজীবনের গতি সুন্দর ও ছন্দময় হয়ে ওঠে। জীবনের সব উৎসবের মূল লক্ষ্যই হল সুখ ও শান্তি লাভ করা। বিশেষ কিছু শাস্ত্রীয় উপচারের মাধ্যমে মহাপ্রভুর এই কৃপালাভ সম্ভব। আর্থিক সমৃদ্ধি কামনায় রথের দিন প্রভুর আসনে একটি সুন্দর হলুদ কাপড় রাখুন। সেই কাপড়ের ওপর এগারোটি কড়ি রেখে তাতে কেশরের তিলক দিন। সারা রাত তা ঠাকুরের আসনে রেখে পরের দিন কাপড়টি বেঁধে ক্যাশ বাক্স বা টাকা রাখার স্থানে রাখলে আর্থিক উন্নতি ঘটে।
আবার বিশেষ মনস্কামনা পূরণের জন্য সকাল আটটার আগে একটি হলুদ কাপড়ে এগারো রকমের ফল, এগারোটি মিষ্টি ও এগারোটি এক টাকার মুদ্রা বাঁধতে হবে। সেই মোড়কটি জগন্নাথ, রাধাকৃষ্ণ বা যে কোনও বিষ্ণু মন্দিরে অর্পণ করে প্রার্থনা জানালে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়।
সংসারে সুখ-শান্তি বজায় রাখতে রথযাত্রার দিন একটি পিতল বা বাটিতে আতপ চাল, দুটি গোটা হলুদ ও একটি এক টাকার মুদ্রা রেখে জগন্নাথের সামনে দিন। উলটোরথের দিন বা তার পরের দিন সেই সামগ্রী কোনও ব্রাহ্মণ বা দীনদরিদ্রকে দান করলে গৃহস্থের কল্যাণ হয়। মানসিক অশান্তি ও বিষাদ দূর করতে তুলসী মালার উপযোগিতা অপরিসীম। ডাঁটি বেঁধে তৈরি করা ১০৮ বা ৫৪টি তুলসী পাতার মালা রথের দিন ত্রিমূর্তির চরণে অর্পণ করলে মন শান্ত হয়।
