www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

September 21, 2026 10:55 am

একদম সামনেই আমাদের শ্রেষ্ট উৎসব দুর্গাপূজা। এই মা দুর্গাকে নিয়ে সারা দেশ জুড়ে আছে কত গল্প কাহিনী।

একদম সামনেই আমাদের শ্রেষ্ট উৎসব দুর্গাপূজা। এই মা দুর্গাকে নিয়ে সারা দেশ জুড়ে আছে কত গল্প কাহিনী। আজ আমাদের বিষয় বেলেঘাটার কালো দুর্গা। তপ্তকাঞ্চনবর্ণা’ যে মা-কে দেখতে বাঙালি অভ্যস্ত, তার বাইরেও যে ভিন্ন রূপে দেবী পূজিত হন, তা জানা আছে কি? প্রচলিত গৌরবর্ণা প্রতিমার ভিড়ে বেলেঘাটার ভট্টাচার্য পরিবারের ‘কালো দুর্গা’ তেমনই এক অপার বিস্ময়! অধিকাংশ মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমার গাত্রবর্ণ তপ্তকাঞ্চনবর্ণা হলেও এই পরিবারে ভিন্ন রূপ দৃশ্যমান। এখানে দেবী আরাধিতা হন ‘ভদ্রকালী’ রূপে, যার গায়ের রং ঘোর কৃষ্ণবর্ণ। তবে দেবীর চার সন্তানের গাত্রবর্ণ গৌর। মহিষাসুর এখানে উদীয়মান পাতার মতো সবুজ রঙের। কালিকা পুরাণ মেনে আয়োজিত এই পুজো দেখতে প্রতি বছর অগুণতি পুণ্যার্থী ভিড় জমান।

প্রায় ৩০০ বছর আগে অবিভক্ত বাংলার পাবনার স্থলবসন্তপুরে এই পুজোর সূচনা হয়। নদীয়া নিবাসী শ্রী হরিদেব ভট্টাচার্য নাটোরের রানি ভবানীর কাছ থেকে জমি পেয়ে জমিদারি পত্তন করেন। পূর্বে এই পরিবারে কালীপুজো হলেও, হরিদেব স্বপ্নাদেশ পান দুর্গাকে ভদ্রকালী রূপে কৃষ্ণবর্ণে প্রতিষ্ঠা করার। সেই অলৌকিক নির্দেশের উপর ভর করেই আজও অব্যাহত এই ধারা। ভট্টাচার্য বাড়ির প্রতিমা গঠনে স্থানগত বেশ কিছু বৈচিত্র দেখা যায়। দেবীর ডান পাশে অবস্থান করেন দেবী লক্ষ্মী ও কার্তিক। অন্যদিকে বাম পাশে বিরাজ করেন দেবী সরস্বতী ও গণপতি। শক্তির এই বিশেষ সজ্জা পুজোটিকে অন্যান্য বনেদি বাড়ির পুজো থেকে আলাদা মাত্রা এনে দেয়। দেশভাগের জন্য ঐতিহ্যবাহী এই পুজোকে একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। ১৯৩৫ সালে কর্মসূত্রে পরিবারের সদস্যরা আসানসোল ও কলকাতায় আসেন। পরবর্তীতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আসানসোলে এবং সত্তরের দশকে দুর্গাপুরে পুজো অনুষ্ঠিত হয়। আশির দশক থেকে কলকাতার বেলেঘাটায় ধীরেন চারু স্মৃতি সংঘের কাছে এই পুজো স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পায়।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *