পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে কথা বলে একটা বিষয় পরিষ্কার যে ২০ টাকা না হলেও বাসের ভাড়া অনেকটাই বাড়তে চলেছে। বর্তমানে প্রথম ধাপের (স্টেজ ১) জন্য সরকার-নির্ধারিত ভাড়া ৭ টাকা, অথচ বেসরকারি বাস পরিচালকরা গোপনে ১০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গ বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি পি এন বসু বলেন, ‘ভাড়া পুনর্বিবেচনা এখন সময়ের দাবি। গত আট বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা বর্তমান ভাড়ার কাঠামোটি আর আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। ২০১৮ সালের ভাড়ার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালে আমাদের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই পরিচালনগত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা প্রথম ধাপেই ২০ টাকা ভাড়া করার দাবি জানাচ্ছি।’ পশ্চিমবঙ্গ বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি পি এন বসু জানান, বৈঠকে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে—যেমন বাসের ওপর জরিমানা আরোপ এবং এ রাজ্যের ও দেশের অন্যান্য অংশের মধ্যে সড়ক টোল বা মাশুলের হারের পার্থক্য। তিনি বলেন, মন্ত্রী এই সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বাস অপারেটারজের জন্য এককালীন সহায়তা প্যাকেজ নিয়েও আলোচনা হয়েছে, তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই নিয়ে বৈকে কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
পরিবহণ দফতরের ময়দান টেন্টে পরিবহণ মন্ত্রী এবং দফতরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ‘জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট’, ‘সিটি সাবআরবান সার্ভিস’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈকে মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব সরকারি পরিবহন সংস্থা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তাদের উচিত ছিল আগেই বাস ভাড়া বাড়ানো। বেসরকারি বাস পরিচালকদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে অর্জুন সিং যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমার মতে, বাস ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। দুর্গাপুজোর পর আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। ভাড়া বাড়ানোর পর বাস পরিচালকদের উচিত যাত্রীদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। রাস্তায় আরও ভালোভাবে পরিচালিত বাস প্রয়োজন, যার মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) পরিষেবাযুক্ত বাসও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
