আগ্রা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে, যমুনার তীরে অবস্থিত বটেশ্বর ধাম, অভিনব রূপে এখানে ধরা দেন আদিযোগী মহাদেব। এটি এক বিশাল তীর্থক্ষেত্র, আনুমানিক ১০৮টি মন্দিরের শ্রেণি রয়েছে এখানে। আবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের পর্যটন তথ্য অনুযায়ী এখানে বটেশ্বরনাথ মহাদেবকে (Mahadev) কেন্দ্র করে ১০১টি মন্দিরের সারি রয়েছে।
এখানের গৌরীশঙ্কর মন্দিরে শিব, পার্বতী ও গণেশকে এক বৈচিত্রময় রূপে দেখতে পাওয়া যায়। মহাদেবের বড় বড় চোখ, পাকানো গোঁফ রয়েহে। স্থানীয় মতে, শিব-পার্বতী এখানে বসে রয়েছেন ‘শেঠ-শেঠানি’, —অর্থাৎ ধনী গৃহস্থ দম্পতির ভঙ্গিতে। এই মূর্তি বা মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মহারাজ বদন সিং ভাদোরিয়াকে।
১৭ শতকে মধ্যপ্রদেশের চম্বলের ভাদাওয়ার রাজ্যের শাসক ছিলেন তিনি। এ দাবি সত্যি হলে বুঝতে হয় যে কম করে ৫০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরের সারি। সাধারণত মহাদেবকে দেখতে পাওয়া যায় দুই ভিন্ন রূপে। কখনও তিনি যোগী, তপস্বী। মাথায় জটা, কৃশ দেহ, পরনে বাঘছাল। কখনও আবার তিনি পার্বতীর গৃহস্থ স্বামী। গণেশ ও কার্তিকের পিতা। অনুমান করা হয়, বটেশ্বরের ‘শেঠ-শেঠানি’ এই দ্বিতীয় ধরনের ঘরানার অন্তর্গত। তাই বঙ্গের ঘরোয়া শিবমূর্তির সঙ্গেও যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে এই মূর্তির।
