ভাই ও বোনের মধ্যে পবিত্র সম্পর্কের বাঁধন হলো রাখিবন্ধন। হিন্দুদের এটা একটা ধৰ্মীয় উৎসবও বটে।কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো জানিনা প্রথম কবে ও কখন এই রাখিবন্ধনের সূচনা হয়। এই বিষয়ে পুরাণ ও ধর্মগ্রন্থে কিছু ব্যাখ্যা আছে –
- ভবিষ্য পুরাণের একটি প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী রাখির প্রথম সূচনা কিন্তু কোনও ভাই-বোনের মধ্যে হয়নি। অসুরদের সঙ্গে যুদ্ধে দেবরাজ ইন্দ্র যখন বিপদে পড়ছিলেন, তখন তাঁর সুরক্ষার জন্য স্ত্রী শচী দেবী এগিয়ে আসেন। তিনি মন্ত্র পড়ে একটি লাল সুতো ইন্দ্রের ডান কবজিতে বেঁধে দেন। কাহিনি অনুযায়ী, এরপর যুদ্ধে জয়লাভ করেন ইন্দ্র।
- আরেকটি খুব সুন্দর পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে দেবী লক্ষ্মী আর অসুররাজ বলিকে নিয়ে। বিষ্ণু যখন পাতালপুরীতে বলির পাহারা দিতে গিয়ে বৈকুণ্ঠে আর ফিরছিলেন না, তখন লক্ষ্মী এক ছদ্মবেশ ধরেন। তিনি সাধারণ নারীর বেশে পাতালে গিয়ে বলির হাতে সুতো বেঁধে তাঁকে নিজের ভাই বানিয়ে নেন।
- বোনকে উপহার দেওয়ার কথা বলতেই দেবী লক্ষ্মী তাঁর আসল পরিচয় জানান এবং শ্রীবিষ্ণুকে বৈকুণ্ঠে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, পাতালরাজ বলিও রাখির মর্যাদা রাখতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। তিনি তৎক্ষণাৎ বিষ্ণুকে মুক্তি দিয়ে তাঁর বোনের সঙ্গে স্বর্গে পাঠিয়ে দেন।
- সবচেয়ে জনপ্রিয় কাহিনিটি হল শ্রীকৃষ্ণ আর দ্রৌপদীর গভীর স্নেহের সম্পর্ক। একবার কৃষ্ণের আঙুল কেটে রক্ত পড়তে দেখে দ্রৌপদী এক মুহূর্তও না ভেবে নিজের নতুন শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে কৃষ্ণের আঙুলে বেঁধে দিয়েছিলেন। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, পরবর্তীকালে ভরা রাজসভায় দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ।
