হিন্দু ধর্মে বেশ কিছু নীতি নিয়ম আছে। অবশ্যই সেই নীতি আমাদের মেনে চলতে হবে। এই সমস্ত নিয়ম বর্ণিত আছে বিভিন্ন পুরানে। পূজা অর্চনা আমরা সবাই কম বেশি করে থাকি। দেবতাদিগকে তুষ্ট করতে তাঁদের প্রিয় ফুল বা পছন্দের ভোগ প্রসাদ যেমন জানা দরকার তেমনি তাঁরা যাতে রুষ্ট না হন সেই জন্য তাঁদের অপছন্দ জানা ও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।তাহলে আসুন জেনে নেই কোন পূজায় কি নিষিদ্ধ —
- নিষিদ্ধ পুষ্প
- লাল চন্দন, লাল রঙের ফুল, বেলপাতা, আকন্দ ফুল এবং ধুতুরা ফুল দিয়ে কখনো দেবকী নন্দন বিষ্ণুর অর্চনা করা উচিত নয়।
- কুন্দ, নবমল্লিকা, যুথী, কেতকী, রক্ত জবা, সন্ধ্যা মালতী, শেফালি, কুমুদ, ও রক্ত করবী শিব পূজায় নিষিদ্ধ ফুল।
হলুদ ঝিন্টী, সাদা ঝিন্টী, টগর, শ্বেত জবা, মন্দার, কুমুদ,ও কাশফুল দেবীর অর্চনায় ব্যবহৃত হয় না। - আতপ চাল দিয়ে বিষ্ণুর, তুলসী দিয়ে গণেশের আর বেলপাতা দিয়ে সূর্য্যের পূজা হয় না।
- পদ্মফুল ও আমলকী পত্র দুই দিন পর্য্যন্ত বিশুদ্ধ থাকে, কিন্তু তুলসী আর বেলপাতা কখনো বাসি হয় না সর্বদা বিশুদ্ধ থাকে। পুষ্পাদি যেভাবে উৎপন্ন হয় সেই ভাবেই দেবতাকে দিতে হয় কেবল বিল্বপত্র অধোমুখ করে অঙ্গুষ্ঠা ও তর্জনী দিয়ে বোঁটা ধরে দিতে হয়। বাম হাতে ফুল রেখে ডান হাত দিয়ে একটি একটি করে ফুল দেবতাকে দিতে নেই।
- নিষিদ্ধ বাদ্য
শিবমন্দিরে করতাল, সূর্য্যগৃহে শঙ্খ, দুর্গামন্ডপে বংশী ও মধুরী, ব্রহ্মাগারে ঢাক এবং লক্ষ্মীগৃহে ঘণ্টা বাজানো নিষেধ। - ধূপ ও দীপ
দেবতার ডান দিকে দীপদান করিতে হয়, সম্মুখে বা বামদিকে নয়। ধূপ বামদিকে দিতে হয়, সম্মুখে বা ডানদিকে নয়। ধূপ সব সময় আধারে রাখিয়া নিবেদন করিতে হয়। - একত্রে বিগ্রহদ্বয় পূজা নিষেধ
- একসাথে দুই শিবলিঙ্গ, দুই গণেশ, দুই সূর্য্য, দুই শক্তি, দুই শালগ্রাম পূজা করিতে নাই। একসময়ে ঐরূপ যুগ্ম পূজা করিলে গৃহী উদ্বেগ প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। পূজায় ব্যবহৃত দ্রব্য ও তার সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকায় আমরা ভুল ভ্রান্তি করে থাকি। তাই জানা থাকলে ক্ষতি কি?
