বিশ্বাস রয়েছে, একবার নারদ জগন্নাথদেবের দর্শনের উদ্দেশ্যে পুরীতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে মন্দিরের প্রবেশদ্বারে পাহারায় ছিলেন বজরংবলী হনুমান। মন্দিরে প্রবেশ করে নারদ মুনি লক্ষ্য করেন, জগন্নাথদেব অশান্ত এবং উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন। কারণ জানতে চাইলে প্রভু জানান, সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ের গর্জন তাঁর মনকে অস্থির করে তুলছে। সেই শব্দের কারণে তিনি একাগ্রচিত্তে ধ্যানে মনোনিবেশ করতে পারছেন না। মন্দির থেকে বেরিয়ে নারদ মুনি এই সমস্যার কথা বজরংবলীকে জানান। প্রভুর কষ্টের কথা শুনে হনুমান সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তিনি সমুদ্রতীরে গিয়ে সমুদ্রদেবকে অনুরোধ করেন, যেন ঢেউয়ের গর্জন কিছুটা কমানো হয়। কিন্তু সমুদ্রদেব জানান, সমুদ্রের ঢেউ ও তার গর্জনের উপর তাঁর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। এই শক্তি মূলত পবনদেবের অধীনে।
বজরংবলী এবার একই অনুরোধ নিয়ে পৌঁছন পবনদেবের কাছে। পবনদেব জানান, সমুদ্রের গর্জন কমাতে হলে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে হবে। যে দিক থেকে হাওয়া বইছে, তার বিপরীত দিক থেকে আরও শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করা গেলে সমুদ্রের গর্জন অনেকটাই চাপা পড়ে যাবে। সেই পরামর্শ মেনে হনুমান বিপরীত দিকে প্রবল বেগে উড়তে শুরু করেন। তাঁর সৃষ্ট শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের দিক থেকে আসা শব্দকে মন্দিরের দিকে পৌঁছতে বাধা দেয়। তারপর থেকে জগন্নাথ মন্দিরের ভিতরে সমুদ্রের গর্জন শোনা যায় না। হনুমানের সেই শক্তির প্রভাবেই জগন্নাথ মন্দিরের চূড়ার পতাকা সবসময় বাতাসের স্বাভাবিক গতির বিপরীত দিকে উড়তে দেখা যায়। এ কথাও বিশ্বাস করা হয়।
