ভগবান গনেশকে নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। তার মধ্যে একটি অন্যতম গল্প হল – গনেশের এক দাঁত ভাঙা থাকার গল্প। তার হাতির মতো মাথা, বিশাল পেট আর ইঁদুর বাহনের কথাও কারোর অজানা না। কিন্তু কখনও কি খেয়াল করে দেখেছেন, গণেশ ঠাকুরের একটি দাঁত পুরো থাকলেও, অন্য দাঁতটি অর্ধেক ভাঙা? আর ঠিক এই কারণেই তাঁকে বলা হয় ‘একদন্ত’। আপনারা কি জানেন, কেন তাঁর এমন রূপ হল? এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে দারুণ সব পৌরাণিক কাহিনি, যা শুনলে সত্যিই চমকে যেতে হয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্পটি জড়িয়ে আছে মহাকাব্য মহাভারতের সঙ্গে। প্রাচীন গ্রন্থ অনুযায়ী, মহর্ষি বেদব্যাস যখন মহাভারত রচনা করার কথা ভাবেন, তখন তাঁর এমন একজনের দরকার ছিল যিনি তাঁর মুখে শুনে একটানা লিখে যেতে পারবেন। তিনি গণেশের কাছে যান। গণেশ রাজি হন, তবে একটি অদ্ভুত শর্ত দেন, লেখা চলাকালীন বেদব্যাস কখনও থামতে পারবেন না, থামলেই তিনি লেখা ছেড়ে দেবেন। বেদব্যাসও পাল্টা শর্ত দেন যে, না বুঝে কোনও শ্লোক লেখা যাবে না।
সব ঠিকঠাক, লেখা শুরু হল। কিন্তু লিখতে লিখতে হঠাৎ গণেশের কলমটি ভেঙে যায়! শর্ত অনুযায়ী তো থামা বারণ। তাই কালবিলম্ব না করে গণেশ নিজের একটি দাঁত ভেঙে ফেলেন। এরপর সেই ভাঙা দাঁতটিকে কলম বানিয়ে তিনি ফের মহাভারত লিখতে শুরু করেন। কাজের প্রতি এমন নিষ্ঠা আর বুদ্ধির জোরেই তিনি একদন্ত! ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে (Brahmanda Purana) আবার একটি অন্য গল্প পাওয়া যায়। শিবের পরম ভক্ত পরশুরাম একবার কৈলাসে গিয়েছিলেন মহাদেবের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু শিব তখন গভীর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। গণেশ ছিলেন পাহারায়। তিনি নিয়ম মেনে পরশুরামকে ভেতরে যেতে বাধা দেন। এতে পরশুরাম রেগে গিয়ে তাঁর কুঠার দিয়ে গণেশকে আক্রমণ করেন।মজার ব্যাপার হল, এই কুঠারটি মহাদেব শিবই তাঁকে দিয়েছিলেন। বাবার অস্ত্রের সম্মান রাখতে গণেশ সেই আঘাত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। বরং কুঠারটি তিনি নিজের একটি দাঁতের ওপর ধারণ করেন। যার ফলে তাঁর একটি দাঁত ভেঙে যায়। বাবার প্রতি এমন ভক্তি সত্যিই বিরল।
