ভারতীয় বস্তুর মূল বিষয় হল, বাড়ির কোথায় কোন ঘর অবস্থিত। সেই দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলো বাথরুমের অবস্থান। অফিসে সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি, জ্যাম ঠেলে বাড়ি ফেরা—সব কিছুর পর সকলেই একটাই শান্তির জায়গা খোঁজেন, সেটা হল শোয়ার ঘর। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল, পর্যাপ্ত ঘুমিয়েও যদি পরের দিন সকালে আপনার মনে হয় শরীর চলছেনা, বা মেজাজটা খিটখিটে হয়ে আছে, তবে দোষটা আপনার নয়, আপনার ঘরের বাস্তুর হতে পারে। বিশেষ করে আপনার ফ্ল্যাটটি যদি আধুনিক ছাঁচের হয়, যেখানে খাটের ঠিক সামনেই এটাচড বাথরুমের দরজা, তবে কিন্তু সাবধান! বাস্তুবিদেরা বলছেন, অজান্তেই আপনি ‘রাহু’র প্রকোপকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, শোয়ার ঘর হল বিশ্রামের আধার, আর শৌচাগার হল অশুদ্ধ বায়ু এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার উৎস। যখন খাটের ঠিক উল্টোদিকেই বাথরুমের দরজা থাকে, তখন সেখান থেকে নির্গত নেতিবাচক তরঙ্গ সরাসরি আপনার ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে।
গবেষণামূলক তথ্য বলছে, এর ফলে মানসিক অস্থিরতা বাড়ে, হজমের সমস্যা দেখা দেয় এবং হাড়ের ব্যথায় ভোগার সম্ভাবনা তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যেও অকারণ অশান্তি আর তিক্ততা তৈরি করতে পারে এই একটি ছোট বাস্তুদোষ। বাথরুমের কাজ শেষ হলেই দরজা বন্ধ রাখার অভ্যাস করুন। তবে শুধু দরজা বন্ধ রাখাই যথেষ্ট নয়, বাস্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন দরজায় একটি গাঢ় রঙের মোটা পর্দা ঝুলিয়ে দিন। এটি নেতিবাচক শক্তির সামনে বর্মের মতো কাজ করবে। একটি কাঁচের পাত্রে কিছুটা সামুদ্রিক নুন (Sea Salt) ভরে বাথরুমের এক কোণে রেখে দিন। নুন পরিবেশের বিষাক্ত আর্দ্রতা আর অশুভ শক্তি শুষে নিতে সক্ষম। তবে মনে রাখবেন, প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই নুন বদলে ফেলতে হবে।বাথরুমের দরজার ঠিক বাইরের দিকে একটি ছোট আয়না লাগিয়ে দিন। এতে ঘর যে নেতিবাচক শক্তি বাথরুমের দিকে যেতে চাইবে, তা আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে যাবে।
