বেশ ধৰ্মীয় আবেগের সঙ্গে শুরু হয়েছে বাগবাজার গৌড়ীয় মাঠে চন্দনযাত্রা মহোৎসব। বৈশাখী পূর্ণিমার প্রখর দাবদাহে যখন তিলোত্তমা তপ্ত, তখনই বাগবাজারের এক প্রাচীন প্রাঙ্গণে বয়ে যায় ভক্তির শীতল সমীরণ। কলকাতার ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহল ছাড়িয়ে গৌড়ীয় মঠের আঙিনায় শুরু হবে শ্রীশ্রীকৃষ্ণের চন্দনযাত্রা মহোৎসব। বাইরে কাঠফাটা রোদ, আর ভেতরে মলয়জ চন্দনের সুবাস। হরিনাম সংকীর্তনের মূর্ছনায় তৈরি হয়েছে এক চিন্ময় জগৎ। এই যাত্রা কেবল শাস্ত্রীয় আচার নয়, এ এক আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ। গভীর আধ্যাত্মিক অনুশীলনে কলম ধরলেন গৌড়ীয় মিশনের আচার্য্য ও সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ। চন্দনযাত্রার ইতিহাস অতি প্রাচীন। সত্যযুগে শ্রীজগন্নাথদেবের আদেশে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন এই প্রথার সূচনা করেন। পরবর্তীকালে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পরমগুরু মাধবেন্দ্রপুরী পাদ গোপালের সেবায় শীতল চন্দন অর্পণ করে ভক্তির এক অনন্য নজির গড়েছিলেন।
সেই ধারা মেনেই গৌড়ীয় মিশনের প্রধান কার্যালয় বাগবাজারে এই উৎসব পালিত হচ্ছে। বৈষ্ণব দর্শনে ভগবানের সেবা মানেই প্রেমের নির্যাস। ভক্ত যখন নিজের হাতে চন্দন ঘষে শ্রীবিগ্রহে নিবেদন করেন, তখন তাঁর হৃদয়ের সমস্ত উত্তাপ প্রশমিত হয়। এই শীতলতা কেবল শরীরের নয়, বরং আত্মার। একুশ দিনব্যাপী এই উৎসবে প্রতিদিন ভোরে মঙ্গল আরতির মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। ভক্তরা নিষ্ঠার সঙ্গে চন্দন প্রস্তুত করেন। বিকেলে ভাগবত পাঠ, পরিক্রমা ও সন্ধ্যারতির আয়োজন থাকে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে চন্দন শৃঙ্গার দর্শন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এখানে মানুষের ঢল নামে। ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে সকলেই মেতে ওঠেন সেবায়।
