ময়ূরের পালক ভগবান কার্তিক এবং শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, যা ঘরের আধ্যাত্মিক শক্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে। তবে খেয়াল রাখবেন, ময়ূরকে আঘাত করে সংগ্রহ করা পালক কখনও ঘর সাজানোর কাজে ব্যবহার করবেন না। কেবল প্রাকৃতিকভাবে ঝরে পড়া পালক সঠিক স্থানে রাখলেই আপনার বাড়িতে বাস্তুর আসল সুফল আসবে। বাড়ির প্রধান দরজার ঠিক পাশে একটি সুন্দর জারে তিনটি বা পাঁচটি ময়ূরের পালক একসঙ্গে সাজিয়ে রাখুন। বাস্তুশাস্ত্র মতে, এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আধ্যাত্মিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এবং পরিবেশ শুদ্ধ রাখে। এর ফলে দুর্ভাগ্য বা বাইরের কোনও নেতিবাচক শক্তি আপনার নিরাপদ অন্দরমহলে প্রবেশ করতে পারে না।
শিক্ষার্থী বা পেশাদারদের পড়াশোনা ও কাজে মনোযোগ বাড়াতে বইয়ের ভেতরে বা পড়ার টেবিলে একটিমাত্র পালক রাখা ভীষণ উপকারী। মনে করা হয়, এটি মানসিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে এবং মস্তিষ্কের একঘেঁয়েমি কাটাতে চমৎকারভাবে সাহায্য করে। তাই পরীক্ষার সময়ে বা গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের কাজের ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য জিনিস হতে পারে। প্রধান বসার ঘরে ময়ূরের পালক দিয়ে তৈরি একটি বড় আলংকারিক পাখা রাখলে তা বাড়ির শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখে। এটি নিশ্চিত করে যে আত্মীয়স্বজন ও দর্শনার্থীরা একে অপরের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে কথা বলেন। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অকারণে মতবিরোধ বা তুচ্ছ ঝগড়া হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। আর্থিক উন্নতির জন্য আপনার বাড়ির উত্তর বা পূর্ব দিকের দেওয়ালে পালকের ফ্রেম ঝুলিয়ে রাখা অত্যন্ত শুভ। উত্তর দিকটি সম্পদের দেবতা কুবেরের স্থান হিসেবে পরিচিত, তাই সেখানে রাখা পালকগুলি সমৃদ্ধি আকর্ষণ করে। এই সহজ বাস্তু টোটকাটি আপনার বাড়ির আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে বড় অনুঘটকের ভূমিকা নিতে পারে।
