www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

May 27, 2024 3:04 pm
কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta Highcourt)

জানা নেই অপরাধী কিন্তু যাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ একনও তদন্তসাপেক্ষ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যিনি পাননি, তাঁর নাম কি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ করা যায়। বারতের বিচার ব্যবস্থায় অপরাধীর নাম প্রকাশ্যে এনে আম জনতার দরবারে তুলে দেওয়ার রীতি নেই। তবে আত্মহননকারী কি সত্যি বিচার পেলেন। তাঁর বিচার করবে কে।

শ্রী বুদ্ধিমান তর্কবাগীশ

টুম্পারানি মণ্ডল খবর হয়েছেন। কোনও সংবাদপত্রে একটু বড়। কোথাওবা ধরিয়ে দেওয়া গোছের খবর। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের দেবীপুর মিলন বিদ্যাপীঠের বাংলা শিক্ষিকা টুম্পারানির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা আর পাঁচটা আত্মহত্যার খবর হত যদি না তার নেপথ্যে থাকত অসম্মান আর অপমানের কাহিনি।

সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল একটি তালিকা। সেই তালিকা (তালিকার সত্যাসত্য বিচার সম্ভব হয়নি) নাকি ছিল সেইসব শিক্ষক শিক্ষিকার নাম যাঁরা সোজাপথে চাকরি পাননি। অর্থাৎ দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে যাঁরা শিক্ষক-শিক্ষিকা হয়েছিলেন।

আদালতের (Calcutta Highcourt) নির্দেশে কমিশন (School Service Commission) প্রকাশ করেছিল তালিকা। কিন্ত সেই তালিকা ভাইরাল হয়ে যায় সমাজমাধ্যমে। কী করে মুখ দেখাবেন সহকর্মীদের? কী করে মুখোমুখি হবেন সন্তানসম ছাত্রদের? অনুমান করা অসম্ভব নয়, ভাইরাল তালিকা দেখে এইসব চিন্তাই কুঁডে কুঁড়ে খাচ্ছিল টুম্পারানিকে। অপমান, অসম্মানের আশঙ্কায় ঝুলে পড়েছিলেন বাংলার শিক্ষিকা।

আত্মহত্যার গরিমা থাকে না। কিন্তু মৃতদেহ আঙুল তুলে প্রশ্ন করে। প্রকাশ্যে অপমান আর প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের ফারাক কোথায়। সব জায়গায় ব্যর্থ হয়ে মানুষ আশ্রয় নেয় বিচারবিভাগের। ন্যায়ের প্রত্যাশায়।

যোগ্যতা সত্ত্বেও যাঁরা চাকরি পাননি আদালত তো তাঁদের তো ভরসাস্থল হবেই। দুর্নীতি হলে তদন্ত হবে। বিচারে শাস্তিও হবে। অসৎ উপায়ে কেউ চাকরি পেলে সেখান থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা থেকে শুরু করে আরও নানা ধরনের শাস্তি দিতে পারে আদালত। কিন্তু এ ভাবে দুর্নীতিগ্রস্তদের নাম প্রকাশ করে বাড়তি কী মেলে? বিচারবিভাগের উপর সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই প্রশ্ন তুলছে টুম্পারানির মৃতদেহ।

তার্কিকরা বলবেন, এ হল বিচার বিভাগের অতি সক্রিয়তা। আইনজীবী এবং বিচারক, বিচারপতিদের কেউ কেউ বলবেন, এ হল বিচারের অন্য এক ধারা। বিচার ব্যবস্থার চোখ বাঁধা। বিচারপতি বা বিচারকদের নয়। কারও প্রতি অন্যায় হলে তাঁর পাশে দাঁড়ানোটাই ন্যায়।

পরিবেশ, পরিস্থিতি যদি ন্যায়প্রার্থীর বিপক্ষে থাকে সেখানে নিরপেক্ষ থাকাটাই অন্যায়। সনাতনী ধারা নাকি সব জায়গায় খাটে না। যে যুক্তিতে শিক্ষক ক্লাসে সকলের সামনে কাউকে শাস্তি দিতেন দুর্নীতিগ্রস্তদের নামপ্রকাশে তারই ছায়া দেখছেন অনেকে।

কিন্তু এখানেও প্রশ্ন হল, ছাত্র সবক শেখানো সে ধারাও তো সনাতনী। এখন তো শিক্ষককে বলা হয় বন্ধু, দার্শনিক ও পথ নির্দেশক। দুর্নীতিগ্রস্তরা কি এতটাই ঘৃণ্য যে তাদের কেউ বন্ধু হয়ে বোঝাবে না। ধরিয়ে দেবে না কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল।

যুক্তির জালে এ প্রশ্নও আসতে পারে, যে যোগ্য প্রার্থী চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যা করলেন তাঁর কথা কে ভাববে? প্রশ্ন সঙ্গত। ভাবতে হবে সরকারকে। ভাবতে হবে গোটা ‘সিস্টেম’কে। ভাবতে হবে সমাজকে।

যোগ্যদের পরিবর্তে অযোগ্যরা চাকরি করছেন, আর অর্থকষ্ট, আত্মগ্লানি, অসম্মানে ভুগছেন যোগ্য— এটা যেমন চলতে পারে না। তেমনি দুর্নীতিগ্রস্তদের দাগিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিগ্রাহ্য সে প্রশ্ন ভেবে দেখার সময় এসেছে।

কারণ, কথায় আছে চোখের বদলে চোখ নীতি নিলে তো সকলেই অন্ধ হয়ে যাবে। দাঁড়িপাল্লা হাতে নেওয়া মূর্তির চোখে তখন কালো কাপড় বাঁধবে কে?

জানা নেই অপরাধী কিন্তু যাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ একনও তদন্তসাপেক্ষ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যিনি পাননি, তাঁর নাম কি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ করা যায়। বারতের বিচার ব্যবস্থায় অপরাধীর নাম প্রকাশ্যে এনে আম জনতার দরবারে তুলে দেওয়ার রীতি নেই। তবে আত্মহননকারী কি সত্যি বিচার পেলেন। তাঁর বিচার করবে কে।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *