www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

July 1, 2026 10:08 am

পুরীর জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা (Jagannath Rath Yatra) শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে বহু ইতিহাস বিজড়িত গল্প।

পুরীর জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা (Jagannath Rath Yatra) শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে বহু ইতিহাস বিজড়িত গল্প। প্রতি বছর রথের ঠিক দিনকয়েক আগে থেকে দেশজুড়ে তৈরি হয় উন্মাদনা। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় ১০৮ কলসি সুবাসিত জলে স্নান সেরে নিয়মমাফিক ‘ধূম জ্বরে’ পড়েছেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। আপাতত ১৫ দিন লোকচক্ষুর আড়ালে কড়া নিয়মে রাজবৈদ্যের পাঁচন খেয়ে সুস্থ হওয়ার পালা। তারপরই তাঁরা রওনা দেবেন মাসির বাড়ি। কিন্তু এই যে তিন ভাই-বোনের জন্য প্রতি বছর তৈরি হওয়া তিনটি বিশাল রথ, নন্দীঘোষ, তালধ্বজ আর দর্পদলন বা পদ্মধ্বজ এদের নির্মাণের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এমন কিছু গল্প, যা শুনলে বেশ অবাক হতে হয়।
রথযাত্রার এই রীতির শুরুটা কিন্তু মন্দির চত্বরের বাইরেই ঘটে। কথিত আছে, জগন্নাথ দেবের ৪৫ ফুট উঁচু রথ ‘নন্দীঘোষ’-এর নাম দিয়েছিলেন স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র। এই রথটিতে ১৬টি চাকা থাকে এবং ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮৩২টি কাঠের টুকরো লাগে। আর তিনটি রথ মিলিয়ে প্রায় ৮৮৪টি গাছের ১২ ফুটের কাণ্ড ব্যবহার করা হয়। তবে যে কোনও গাছ হলেই চলবে না, শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে রথ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় প্রধানত নিম ও হাঁসি গাছের কাঠ। ওড়িশার জঙ্গল থেকে নির্দিষ্ট এই গাছগুলি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটিও বেশ জটিল। বন দপ্তরের অনুমতি মেলার পর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত নিজে জঙ্গলে গিয়ে সেই গাছের পুজো করেন।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, এই রথ তৈরির কাঠ কাটার সূচনায় সাধারণ কোনও কুঠার ব্যবহার করা হয় না। রাজকীয় ঐতিহ্য মেনে পুরীর রাজা হিসেবে জগন্নাথের কাঠ কাটার সূচনা করতে আনা হয় সোনার জল করা বিশেষ কুঠার। প্রতি বছর অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য তিথিতে এই রথ নির্মাণের মহাযজ্ঞ শুরু হয়। তার আগে বংশানুক্রমিকভাবে রথ তৈরির দায়িত্ব পালন করে আসা ছুতোর পরিবারের প্রধান সদস্য ওই সোনা ছোঁয়া কুঠারটি প্রথমে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে স্পর্শ করান। ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে তবেই শুরু হয় প্রথম কাঠ কাটার কাজ। রথ নির্মাণের প্রযুক্তিগত কৌশল আবার আধুনিক বিজ্ঞানকেও রীতিমতো টেক্কা দিতে পারে। বিশালাকার এই তিনটি রথ তৈরিতে একটিও লোহার পেরেক, স্ক্রু বা কাঁটা ব্যবহার করা হয় না! সম্পূর্ণ রথটি দাঁড়িয়ে থাকে প্রাচীন ভারতীয় কাঠ-খোদাই পদ্ধতি ও কাঠের খিলান নিখুঁতভাবে জোড়া দিয়ে। প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই নির্মাণকাজে যুক্ত কারিগরদের জীবনযাত্রাও এই কদিন এক্কেবারে বদলে যায়। যতদিন রথ তৈরি চলে, ততদিন তাঁরা বাড়ি ফেরেন না, মন্দির চত্বরেই বাস করেন। কারিগররা সবাই একই সময়ে হবিষ্যান্ন বা ছিমছাম নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন এবং কঠোর ব্রহ্মচর্য মেনে চলেন। এমনকি কাজ চলাকালীন কোনও কারিগরের পরিবারে কোনও অশুভ ঘটনা বা অশৌচ ঘটলে, তিনি নিজে থেকেই এই পবিত্র কাজ থেকে সরে দাঁড়ান।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *