এককালে দেবীর মর্ত্যে আগমন ঘটত দোলা কিংবা গজে। সময় বদলেছে। এবারে উমা বাপের বাড়িতে পাড়ি দিলেন একদম আমজনতার ভিড় ট্রেনে। নদিয়ার শান্তিপুর থেকে রওনা হয়ে লোকাল ট্রেনের কামরায় চেপে মা দুর্গার নতুন গন্তব্য এখন সুন্দরবনের নামখানা। শান্তিপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ল শিয়ালদহের উদ্দেশে। ট্রেনের কামরায় হঠাৎই দেবীর দর্শন পেয়ে তাজ্জব নিত্যযাত্রীরা। শান্তিপুরের প্রতিমা শিল্পী সৌম্যদীপের হাত ধরে রূপ পেয়েছেন মা উমা। তিনি পাড়ি দিচ্ছেন সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে। শাস্ত্রে একেই হয়তো বলে ‘সর্বগতায়ৈ নমঃ’। দেবী তো কোনও নির্দিষ্ট যানবাহনে সীমাবদ্ধ নন, তিনি সর্বব্যাপী। প্রতিমার গন্তব্য নামখানার এক ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক পুজো। নদীনালা আর জঙ্গল ঘেরা প্রান্তিক মানুষের ঘরে এবার জ্বলবে দেবীর বোধনপ্রদীপ।
শান্তিপুরের মাটির সোঁদা গন্ধ সোজা গিয়ে মিশবে সুন্দরী আর গরানের দেশে। সেখানেও বাজবে আগমণীর সুর। সাধারণ গণপরিবহনে চেপে এভাবেই দেবী পৌঁছে যাচ্ছেন তাঁর ভক্তদের দোরগোড়ায়। ছবিটা অবশ্য ট্রেনযাত্রায় বদলায়নি। মা এখানে চিরন্তন একচালাতেই বন্দি। সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ধবধবে সাদা ডাকের সাজ। বঙ্গীয় মৃৎশিল্পের নিখুঁত ভাস্কর্য ফুটে উঠেছে সৌম্যদীপের নিপুণ হাতে। শাস্ত্রে দেবীর এই সালঙ্কারা রূপকে বলা হয় ‘শ্রীময়ী’। দেবীর মৃন্ময়ী মূর্তি যেন নিমিষেই হয়ে উঠেছে সাক্ষাৎ চিন্ময়ী। ভোরের আলো ফুটতেই শান্তিপুর লোকালের কামরায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। কিন্তু সিটের পাশে এভাবে সশরীরে দেবীকে দেখে যাত্রীরা অবাক। চালচিত্রের খাঁজে রূপোলি সাজের চমক। কামরার ভেতর তৈরি হয় এক অদ্ভুত ভক্তিঘন আবহ। অনেকে তো হাতজোড় করে প্রণাম জানান। এমন অভিজ্ঞতা লোকাল ট্রেনের যাত্রীদের কাছে নজিরবিহীন।
