www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

November 7, 2026 3:05 pm

বাংলা জুড়ে আছে কথা বিচিত্র মা কালীর মূর্তি। যুগে যুগে মানুষ বিশ্বাস ভরে সেই সমস্ত মূর্তিকে ভক্তিভরে পুজো করে আসছে।

বাংলা জুড়ে আছে কথা বিচিত্র মা কালীর মূর্তি। যুগে যুগে মানুষ বিশ্বাস ভরে সেই সমস্ত মূর্তিকে ভক্তিভরে পুজো করে আসছে। আহলে উত্তর কলকাতায় তেমনি দেবী কালীর কথা জানাবো। ঘোমটা কালী (Ghomta Kali)— নামটা শুনলেই মনের ভিতর একটা কৌতূহল জাগে। শহরের ব্যস্ত রাস্তা থেকে একটু ভিতরে ঢুকলেই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। উত্তর কলকাতার চেনা গলি। একপাশে পুরনো আমলের বাড়ি, অন্যপাশে নতুন ফ্ল্যাট। এর মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে এক অবাক করা ইতিহাস। কালীর সেই চেনা ভয়ংকর রূপ, খোলা চুল বা গলার মুণ্ডমালা, এখানে কিছুই নেই। মন্দিরের ভিতর শান্ত, স্নিগ্ধ এক দেবী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আর তাঁর মাথায় টানা রয়েছে সুন্দর একটি ঘোমটা! ঠিক যেন সাধারণ ঘরের এক মায়াময়ী মেয়ে। শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড় থেকে ভূপেন বোস অ্যাভিনিউ ধরে একটু এগোলে মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজ। তার ঠিক উল্টো দিকের রাস্তা ধরে হাঁটলেই শ্যামপুকুর থানা। আর তার ঠিক সামনেই বলরাম ঘোষ স্ট্রিট। এখানেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই রহস্যময় মন্দির। কিন্তু কেন দেবীর এমন রূপ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পিছিয়ে যেতে হবে আজ থেকে অনেকগুলো বছর আগে।

সালটা ১৮৮৮। এলাকার নামডাকওয়ালা জমিদার বলরাম ঘোষ। তাঁরই বংশধর তুলসীরাম ঘোষ এক রাতে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলেন। মাঝরাতে তাঁর স্বপ্নে এলেন স্বয়ং দেবী। কিন্তু এ কোন রূপ! দেবীর মাথায় ঘোমটা দেওয়া। মুখে অদ্ভুত এক মায়া আর শান্তির ছাপ। ঘুম ভাঙার পর সেই স্বপ্নে দেখা মুখ আর কিছুতেই ভুলতে পারলেন না তুলসীরাম। তিনি ঠিক করলেন, মায়ের এই শান্ত রূপকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করবেন। সেই শুরু। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। স্বপ্নে দেখা রূপ মেনেই তৈরি হল দেবীর মূর্তি। আজও সেই প্রাচীন নিয়ম মেনেই পুজো হয়ে আসছে। মন্দিরের রীতিনীতিও বেশ চমকপ্রদ। প্রতিদিন নিয়ম করে দেবীর পুজো হয়। আর ভোগে থাকে নুন ছাড়া লুচি, পাঁচ রকমের ভাজা, বোঁদে এবং মিষ্টি। কার্তিক মাসের অমাবস্যায় অর্থাৎ কালীপুজোর রাতে এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। পাশাপাশি, বাসন্তী পঞ্চমীর দিনও এখানে বিরাট উৎসব হয়। কারণ, ওই বিশেষ দিনেই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।তন্ত্রসাধক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবার কাছেই এই মন্দির এক গভীর আস্থার জায়গা। সাধকরা দেবীকে দক্ষিণাকালীর শান্ত রূপ হিসেবে পুজো করেন। অনেকে আবার ভালোবেসে নাম দিয়েছেন ‘ছোট ভবতারিণী’।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *